Sunday, 6 September, 2026
6 September
HomeকলকাতাKMC: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শুনানি; ‘বিজেপির স্বার্থরক্ষার’ অভিযোগে সরব তৃণমূল ও...

KMC: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শুনানি; ‘বিজেপির স্বার্থরক্ষার’ অভিযোগে সরব তৃণমূল ও বিরোধীরা, পুরভবনে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৬ হাজার ভোটার থাকার কথা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:

আসন্ন নভেম্বর ২০২৬-এর পুরভোটকে সামনে রেখে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) খসড়ার ওপর সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলির দাবি-আপত্তি জানাতে শনিবার থেকে শুরু হলো মেগা শুনানি। ১০টি পৃথক কক্ষে ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসারদের উপস্থিতিতে পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডের পরিচালনায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রশাসনিক দিক থেকে ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র বদলের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুনানির প্রথম দিনেই বিজেপি-বান্ধব পুনর্বিন্যাসের অভিযোগে পুরভবনে তুঙ্গে ওঠে রাজনৈতিক রাজনৈতিক চাঁপানউতোর।

আরও পড়ুনঃ  গৃহযুদ্ধে অস্তিত্বের সংকটে K.C.Das; বন্ধ হচ্ছে একের পর এক আউটলেট

শুনানির প্রশাসনিক কাঠামো ও মূল অভিযোগসমূহ

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৬ হাজার ভোটার থাকার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ করা হয়েছে:

  • দুই তৃণমূল শিবিরের ক্ষোভ: জাভেদ খান, কুণাল ঘোষ এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে হাজিরা দিলেও একই অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, যেখানে বিজেপি দুর্বল এমন ৫৮টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড করা হয়েছে, কিন্তু বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরকর্তারা কার্যত বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধার্থে এই পুনর্বিন্যাস করেছেন।

  • কংগ্রেসের তোপ: প্রদেশ কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, উত্তর কলকাতার ২২ (৭০৭৬ ভোটার), ২৩ (৬১১৯) ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে (৬৮৪১) ভোটার কম থাকা সত্ত্বেও সেগুলিকে যুক্ত করা হয়নি কেবল বিজেপি কাউন্সিলর থাকায়। অথচ ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড ১০,০৭৯ ভোটার থাকা সত্ত্বেও পাশের ৪৪ নম্বরের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কসবায় বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ, নোটিস হাতে সোমবারই হাজিরার সিদ্ধান্ত

দলভিত্তিক অবস্থান ও পুনর্বিন্যাস বিতর্ক

শুনানিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের রূপরেখা:

রাজনৈতিক পক্ষ / দল শুনানির অবস্থান ও অভিযোগের বিবরণ
তৃণমূল কংগ্রেস “ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বিজেপির স্বার্থরক্ষা করছেন পুরকর্তারা। বৈষম্যমূলকভাবে সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছে।”
প্রদেশ কংগ্রেস “আপত্তি সত্ত্বেও কোনো ‘ফিল্ড ভিজিট’ করা হচ্ছে না। ওয়ার্ডের মানচিত্র বিজেপি কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও বিরোধীদের দেওয়া হচ্ছে না।”
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) অশোক সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের টিম উপস্থিত হয়ে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে জানান— “আসন্ন পুরভোটে নিশ্চিত হার জেনেই বিরোধীরা এখন থেকেই অজুহাত খোঁজা শুরু করেছে।”
সাধারণ নাগরিক নিজেদের এলাকার ওয়ার্ড বিন্যাস ও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বহু সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুনানিতে অংশ নেন।

পরবর্তী সূচি ও প্রশাসনিক স্থিতি

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরভবনে এই দাবি ও আপত্তির শুনানি পর্ব চলবে। তবে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন যে, শুনানি প্রক্রিয়ায় পৃথক নোটিস না দিয়ে অন্যান্য বিষয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। সমস্ত আপত্তি পর্যালোচনার পরই ২০৯টি ওয়ার্ডের চূড়ান্ত সীমানা মানচিত্র প্রকাশ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন