বিশেষ প্রতিবেদন:
মালিকের প্রতি সারমেয়র নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো শহর। মালিক চলে গেছেন পরপারে, কিন্তু তাঁর প্রতি ভালোবাসার টানে প্রতিনিয়ত কবরস্থানে ফুল নিয়ে উপস্থিত হতো এক পথকুকুর। আর সেই অবলা প্রাণীর গভীর শোক ও টান দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারে আপন করে নিলেন এক ফুলের দোকানের কর্মী।

আরও পড়ুনঃ যুগান্তকারী পরিবর্তন! তারাপীঠ মন্দিরে ডিজিটাল যুগের সূচনা
ফুল চুরির পেছনে লুকিয়ে থাকা বেদনাদায়ক সত্য
ঘটনার সূত্রপাত একটি ফুলের দোকান থেকে। একদিন হঠাৎ দোকানের কর্মী দেখতে পান, একটি পথকুকুর তোড়া মুখে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। খোয়ানো ফুল উদ্ধার করতে প্রায় এক মাইল পথ কুকুরটির পিছু ধাওয়া করেন তিনি।
-
কবরস্থানে গিয়ে থমকে যাওয়া: ধাওয়া করতে করতে কর্মীটি দেখতে পান, কুকুরটি সোজাসুজি চলে যায় এক স্থানীয় কবরস্থানে। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কবরের ওপর অত্যন্ত যত্নে ফুলের তোড়াটি রেখে চুপচাপ বসে কান্নার মতো শব্দ করতে থাকে সে।
-
সত্যের উন্মোচন: দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যান ওই কর্মী। তিনি উপলব্ধি করেন, খাবার বা ধ্বংস করার জন্য নয়, নিজের প্রয়াত প্রিয় মানুষকে মনে করে শ্রদ্ধা জানাতেই বারবার ফুল মুখে তুলে নিত ওই সারমেয়।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য বিজেপির নতুন অধিনায়ক কে? জল্পনার শীর্ষে লকেট চট্টোপাধ্যায়, চলতি মাসেই নাম ঘোষণার সম্ভাবনা
শাস্তি নয়, ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নেওয়া
দোকানের মালিককে পুরো বিষয়টি জানালেও তোড়ার দাম কেটে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে মানবিকতার খাতিরে নিজের পকেটের টাকা থেকেই ফুলের দাম মিটিয়ে দেন ওই কর্মবান্ধব যুবক।

| ঘটনার পর্যায় | কর্মী ও কুকুরটির সম্পর্কের বিবর্তন |
| দ্বিতীয়বার আগমন | কিছু দিন পর কুকুরটি ফের দোকানে এলে তাকে তাড়ানোর বদলে নিজের টাকায় ফুল কিনে দেন ওই কর্মী। |
| অটুট পরম্পরা | কাজের বিরতিতে কুকুরটির পাশে হেঁটে আবার সেই কবরস্থানে যান তিনি এবং দুজনে মিলে কবরে ফুল শ্রদ্ধা জানান। |
| চূড়ান্ত দত্তক | অবলা প্রাণীটির আনুগত্য দেখে তাকে স্থায়ীভাবে দত্তক নেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দেন, প্রিয় মানুষের কবরে ফুল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রথা সারা জীবন চালিয়ে যাবেন। |
পৃথিবী থেকে মানুষ হারিয়ে গেলেও যে স্মৃতির ভালোবাসা থেকে যায়, এই অবোলা সারমেয় ও এক সহৃদয় যুবকের এই মেলবন্ধন যেন সেই চিরন্তন সত্যকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।


