কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সিকিমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই এবার দার্জিলিং পাহাড়ের মিরিকে নামল বড়সড় ধস। মিরিক বস্তি-২ এলাকার রংভং নদীতে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে পড়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে পাহাড়ি নদীর বুকেই তৈরি হয়েছে এক প্রকাণ্ড কৃত্রিম জলাধার। যেকোনো মুহূর্তে এই প্রাকৃতি বাঁধ ভেঙে নিচে ভয়াবহ হড়পা বান (Flash Flood) নেমে আসতে পারে বলে চরম সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বিপদ এড়াতে ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় মাস্টারপ্ল্যান; চিকেনস নেক হবে ডাইনোসরস নেক!
বিপর্যয়ের বিস্তার ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ
শনিবার থেকে রংভং খোলা এলাকায় ধস নামার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়:
-
আটকে পড়া জলরাশি: নদীর জল আটকে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় তা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে নিচের দিকে থাকা নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করতে পারে। কারণ রংভং নদী পরবর্তীতে সমতলে নেমে বালাসন নদীতে মিশেছে।
-
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম ও স্থানান্তরিত পরিবার: সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে পাহিলাগাঁও স্কুল, দারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের লাবারবোটার ও লোয়ার পালজারগাঁও। এই অঞ্চলের প্রায় ৩৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তড়িঘড়ি লেপচা কমিউনিটি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
-
জরুরি বৈঠক: পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমাশাসক ও বিডিওদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আপতকালীন বৈঠক করেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল চুরমার, বামেরা ফেসবুকে; পৌরভোটের আগেই বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক? ‘অলআউট’ অভিযানে রাজ্য বিজেপি
উদ্ধারকার্য ও বিশেষজ্ঞ দলের তৎপরতা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জোরকদমে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী:
| বাহিনী / বিভাগ | ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপ |
| ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল | উদ্ধারকাজে দ্রুত নেমেছে ‘অর্জুন বাহিনী’-র ডিজাস্টার টাস্ক ফোর্স। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF)। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকতে সেনা তলব (Army Call-out) করা হয়েছে। |
| বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী দল | নদী বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা কৃত্রিম হ্রদে জমে থাকা জল কীভাবে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ধাপে ধাপে বের করে দেওয়া যায়, সেই প্রযুক্তিগত পথ খুঁজছেন। |
| ধসের স্থায়িত্ব পরীক্ষা | জলাধারের পাড়ের স্থায়িত্ব এবং নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে আকস্মিক প্লাবন এড়ানো যায়। |
প্রশাসনের মূল লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে আকস্মিক জলপ্রবাহ বা হড়পা বান রোখা এবং সমতল ও পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা।


