বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মজীবন এবং জন্মজয়ন্তী উদযাপনে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হতে চলেছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালানোর বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব ও শুভেন্দু অধিকারী।
তবে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া ও অভিভাবকদের এই কর্মসূচীর সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব এবং প্রদীপ বিতরণের পরিকল্পনা ঘিরে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘শারদোৎসব নয়, লিখতে হবে দুর্গাপূজা’, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারিকে পাত্তাই দিলো না সিপিএম
‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মূল রূপরেখা ও কর্মসূচী
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২৩ দিন ধরে আয়োজিত এই কর্মসূচির প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | উদ্যোগ ও কর্মসূচীর বিবরণ |
| আশীর্বাদের প্রদীপ | প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্য। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৭০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রস্তাব। |
| মূল ভেন্যু ও সাজসজ্জা | কলকাতার গঙ্গার তীর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানে প্রদীপ সাজানো ও ৭ অক্টোবর বিশেষ ‘সেবাযাত্রা’ আয়োজন। |
| শিক্ষাঙ্গনে প্রতিযোগিতা | হাইস্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের জন্য ‘স্বপ্নের ভারত’ শীর্ষক রচনা ও ‘নমো সেবা নাটক’ প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা। |
| অন্যান্য সামাজিক কাজ | ১০৮ মিটারের ‘ভারত মণ্ডল’, রক্তদান শিবির, স্বচ্ছতা অভিযান, সেবা জ্যোতি যাত্রা এবং যুব আদান-প্রদান কর্মসূচি। |
আরও পড়ুনঃ হাতে মাত্র আর দশ বছর! তারপরই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে গোটা মানবজাতি; নেপথ্যে এআই?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই অভিযানের আওতায় বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা পরিবারগুলিকে যুক্ত করার প্রস্তাব সামনে আসতেই সমালোচনায় মুখর হয়েছে শিক্ষক সমাজ:
-
শিক্ষক সংগঠনের ক্ষোভ: বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রদীপ জ্বালিয়ে কেন অংশ নিতে হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপভোক্তাদের এভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা তাঁদের অপমান করার সামিল।”
-
সরকারি অবস্থান ও আইনি জটিলতা: রাজ্য সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর বা প্রশাসন এই নির্দেশিকাকে কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্ব এই দিনটিকে মর্যাদার সাথে পালনের আহ্বান জানালেও, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে এর রূপায়ণ নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন অব্যাহত।


