‘ডুয়ার্সকন্যা’ হলো আলিপুরদুয়ার জেলা শাসকের সুসংহত প্রশাসনিক ভবন (Integrated Collectorate Building)। ডুয়ার্স অঞ্চলের চা বাগান শ্রমিক ও উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের বঞ্চনা ও নানা দাবির প্রতিবাদে বামপন্থী রাজনৈতিক দল রিভোল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (RSP) সময় সময় এই ‘ডুয়ার্সকন্যা অভিযান’ বা ডুয়ার্সকন্যা ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে।
আরও পড়ুনঃ সুবিশাল ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকির মুখে কলকাতা! বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা
মূল প্রেক্ষাপট ও উত্থাপিত দাবিসমূহ
এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকে ডুয়ার্স ও আলিপুরদুয়ার জেলা সংলগ্ন অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও চা বাগান শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা। সাধারণত যেসব মূল দাবিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়:
১. চা বাগান শ্রমিকদের মজুরি ও বকেয়া:
-
বন্ধ ও রুগ্ণ চা বাগানগুলো দ্রুত চালু করা।
-
চা বাগান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি (Minimum Wages) আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও বৃদ্ধি করা।
-
প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও গ্র্যাচুয়িটির বকেয়া টাকা অবিলম্বে মেটানো।
২. ভূমি অধিকার (পট্টা প্রদান):
-
চা বাগান ও বনবস্তি এলাকার অধিবাসীদের দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী জমির স্থায়ী মালিকানা বা ‘ভূমি পট্টা’ প্রদান করা।
৩. প্রশাসনিক দুর্নীতি ও রেশনের সমস্যা:
-
রেশন ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং নিখরচায় বা কম খরচে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী বণ্টন নিশ্চিত করা।
-
স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক কাজে দুর্নীতির প্রতিবাদ।
৪. কাজ ও কর্মসংস্থান:
-
১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) বকেয়া মজুরি মেটানো এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়িতে প্রাতঃভ্রমণে দিলীপ ঘোষ; যাদবপুর কাণ্ডে দায় অস্বীকার, বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ
কর্মসূচির ধরণ ও প্রশাসনিক প্রভাব
-
মিছিল ও ঘেরাও: আলিপুরদুয়ার শহর ও আশেপাশের এলাকা থেকে আরএসপি-র সমর্থক ও চা বাগানের শ্রমিকরা মিছিল করে জেলা প্রশাসনিক ভবন ‘ডুয়ার্সকন্যা’-র সামনে জড়ো হন।
-
স্মারকলিপি প্রদান: জেলা শাসকের (District Magistrate) মাধ্যমে রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি (Deputation) জমা দেওয়া হয়।
-
রাজনৈতিক বার্তা: বামপন্থী দল হিসেবে উত্তরবঙ্গের চা বাগান বেল্ট ও গ্রামীণ এলাকায় সংগঠন পুনর্গঠন এবং শ্রমিক-কৃষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আরএসপি-র কাছে এই কর্মসূচি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলন।


