কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বুধবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করার পর তাঁর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে একটি মন্দিরের ভেতরে বসে থাকার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চিৎকারে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে এবং মৃতার ছিন্নভিন্ন দেহ ও মুন্ডু উদ্ধার করে।
আরও পড়ুনঃ কুমিল্লায় জলাশয়ে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ
১. ঠিক কী ঘটেছিল গঙ্গারামপুরের নারায়ণপুর এলাকায়?
-
ভোরবেলাকার আতঙ্ক: বুধবার সকালে ঘুম ভেঙে স্থানীয় বাসিন্দারা যখন প্রাত্যহিক কাজে ব্যস্ত হতে শুরু করেন, তখনই গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
-
মন্দিরে কাটা মুন্ডু হাতে বসে থাকা: অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষ তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করার পর তাঁর কাটা মুন্ডু একহাতে এবং অন্যহাতে একটি রক্তমাখা কাটারি নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মন্দিরের ভেতরে গিয়ে বসেছিলেন।
-
স্থানীয়দের আবিষ্কার: মন্দিরটি সাধারণত সকালেই খোলা থাকে। রিন্টুকে দীর্ঘক্ষণ সেখানে বসে থাকতে দেখে এক প্রতিবেশী কৌতূহলবশত উঁকি দিয়েই শিউরে ওঠেন। তাঁর তীব্র চিৎকারে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। চারদিকে লোক জমা হতে দেখে রিন্টু কাটা মুন্ডু ও কাটারি হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন, যা দেখে ভয়ে-আতঙ্কে পিছিয়ে যান প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে দ্রুত গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘাতক স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ রিন্টুর স্ত্রী সীমা সরকার-এর মুন্ডু ও ধড়বিহীন দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জোড়া এনকাউন্টার’ মধ্যপ্রদেশে! পুলিশ অফিসারকে পিষে দেয় ট্রাক, চালক-সহ ধৃত দু’জনকেই গুলি
২. অভিযুক্তের পরিচয় ও প্রতিবেশীদের বয়ান
-
প্রাক্তন বাস কন্ডাক্টর: অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষ একসময় সরকারি বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন (কিংবা তাঁকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়)। এরপর থেকে তিনি বাড়িতেই অলস জীবন কাটাচ্ছিলেন এবং মাঝে ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছে আপাতভাবে ‘শান্ত’ স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকলেও তাঁর এমন পশুবৃত্তির কাণ্ড দেখে সবাই স্তব্ধ।
-
দাম্পত্য কলহ ও অদ্ভুত আচরণ: রিন্টুর সংসারে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। স্থানীয় ও আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। রিন্টুর এক আত্মীয় রাজেশ প্রামাণিক জানিয়েছেন, ইদানিং রিন্টু কঠোরভাবে নিরামিষ খাবার খেতে শুরু করেছিলেন এবং খ্যাপা বা তান্ত্রিকের মতো অদ্ভুত আচার-আচরণ ও কাজকর্ম করতেন। ঠিক কী কারণে তিনি এমন জঘন্য কাণ্ড ঘটালেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ ও পরিবার উভয় পক্ষই।
বর্তমানে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং পারিবারিক বিবাদ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মানসিক বা অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।


