Sunday, 1 November, 2026
1 November
Homeউত্তরবঙ্গDarjeeling: উত্তরবঙ্গের দুর্গম পথের রহস্যময় আস্থার প্রতীক; তিস্তার গর্জন ও ঘন পাহাড়ি...

Darjeeling: উত্তরবঙ্গের দুর্গম পথের রহস্যময় আস্থার প্রতীক; তিস্তার গর্জন ও ঘন পাহাড়ি জঙ্গলের আড়ালে ‘মা সেবকেশ্বরী’

সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর যে গল্পটি মুখে মুখে ঘোরে, তা হলো ব্রিটিশ আমলের রাস্তা নির্মাণের সময়ের কাহিনি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

একদিকে অতল গভীর খাদ, অন্যদিকে খামখেয়ালি ও খরস্রোতা তিস্তা নদী—তারই বুক চিরে একেঁবেঁকে চলে গেছে পাহাড়ি সাপের মতো আঁকাবাঁকা রাস্তা। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং বা ডুয়ার্সগামী এই রুটে সেবক এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনই সেবক পাহাড়ের গায় গড়ে ওঠা ‘মা সেবকেশ্বরী কালীমন্দির’ ঘিরে ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন লোককথা, অলৌকিক বিশ্বাস এবং গভীর শ্রদ্ধা।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতকারী চালক থেকে শুরু করে সাধারণ পুণ্যার্থীদের কাছে এই স্থানটি কেবল একটি মন্দির নয়, বরং বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার এক চিরন্তন আশ্রয়।

আরও পড়ুনঃ  দেবীর আরাধনা ‘বিয়ে’র নিয়মে!! শান্তিপুরের জাগ্রত ‘মা মহিষখাগী’র অজানা গল্প

১. হর্ন বাজিয়ে প্রণাম: চালকদের অটুট আস্থা ও বিশ্বাস

পাহাড়ি বিপজ্জনক পথে যাত্রা শুরু করার আগে কিংবা সেবক মোড় অতিক্রম করার সময় আজও এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে।

  • গাড়ি থামিয়ে প্রণাম: লরি, বাস বা ছোট গাড়ির চালকেরা মন্দিরের সামনে ক্ষণিকের জন্য গাড়ি থামিয়ে দেবীর উদ্দেশ্যে প্রণাম জানান।

  • হর্নের স্যালুট: অনেকে চলন্ত গাড়িতে বসেই পর পর হর্ন বাজিয়ে দেবীকে স্মরণ করেন এবং তারপর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। স্থানীয় বিশ্বাস, মা সেবকেশ্বরী এই বিপজ্জনক ও ধসপ্রবণ পাহাড়ি পথে যাত্রীদের সমস্ত অশুভ শক্তি ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেন।

২. ব্রিটিশ আমলের ধস ও প্রকৌশলীর স্বপ্নের লোককথা

সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর যে গল্পটি মুখে মুখে ঘোরে, তা হলো ব্রিটিশ আমলের রাস্তা নির্মাণের সময়ের কাহিনি।

  • বাধা ও প্রাণহানি: প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, যখন ব্রিটিশ আমলে এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা কাটা হচ্ছিল, তখন বারবার পাহাড় ধসে কাজ থমকে যেত এবং বহু শ্রমিক প্রাণ হারান।

  • স্বপ্নাদেশ ও পুজো: সেই সময় কাজের দায়িত্বে থাকা এক ইংরেজ প্রকৌশলী নাকি স্বপ্নে দেবীর দর্শন ও নির্দেশ পান। দেবীর আদেশে সেই স্থানে পুজো শুরু হতেই অদ্ভুতভাবে ধস নামা বন্ধ হয় এবং রাস্তা নির্মাণের কাজ সফলভাবে শেষ হয়। যদিও এর কোনো লিখিত ঐতিহাসিক দস্তাবেজ নেই, তবুও স্থানীয়দের স্মৃতিতে এটি জীবন্ত।

৩. পাথরে দেবীর আদল ও মন্দিরে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা

মন্দিরের প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত আরও একটি বিবরণ অনুযায়ী, তিস্তার ধারে এক বিশাল পাথরে প্রথম দেবীর মুখের আকৃতির মতো অবয়ব দেখতে পাওয়া যায়।

  • ধীরে ধীরে বিকাশ: সেই থেকে শুরু হয় স্থানীয়দের আরাধনা, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কালীমন্দিরের রূপ নেয়।

  • প্রাকৃতিক দৃশ্য ও করোনেশন ব্রিজ: পাহাড়ি খাদের ওপর তৈরি সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে পৌঁছাতে হয়। ওপর থেকে তিস্তা নদীর রূপালী ধারা, কালিম্পংয়ের পাহাড় এবং কাছেই অবস্থিত ঐতিহাসিক করোনেশন ব্রিজের (Coronation Bridge) চোখজোড়ানো দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুনঃ  অপঘাতে মৃত যুগলের অস্থি ও করোটিতে নির্মিত বিগ্রহ; মেদিনীপুরের মহতাবপুর পদ্মাবতী মহাশ্মশানের অলৌকিক ‘মা উগ্রতারা তন্ত্রপীঠ’

৪. কালীপুজোর আবহ ও উত্তরবঙ্গের আবেগ

সাধারণ দিনে তো বটেই, বিশেষ করে দীপাবলি ও কালীপুজোর সময়ে মা সেবকেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। ঢাকের আওয়াজ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং তিস্তার স্রোতের গর্জন মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও সিকিম ছাড়াও দূরদূরান্তের মানুষ এই দিনটিতে পুজো দিতে আসেন।

প্রকৃতির তাণ্ডব আর নীরব পাহাড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মা সেবকেশ্বরী কালীমন্দির আবহমান কাল ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তাবোধের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রয়ে গেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন