বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন:
নেপালের পর এবার ভুটানের ভয়াল রূপ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি টাটকা থাকতেই ভুটানের শিনটাফু (Shintaphu) হিমবাহ হ্রদ ফেটে আকস্মিক জলচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদ থেকে ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল একযোগে মো নদী ও পুনাৎসাংছু অববাহিকা হয়ে নেমে আসায় উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন অসম সীমান্তে চরম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা এই ঢলের সঙ্গে শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি উদ্যোগী হয়েছে বামপন্থী দল আরএসপি (RSP)।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের শিয়রে শমন! ভুটানের হিমবাহ লেক ফেটে ধেয়ে আসছে জল
রাতভর আতঙ্কে নদী পারের বাসিন্দারা: সড়কপথে ঠাঁই গবাদি পশুর
ভুটান সীমান্ত থেকে বানের জল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমানা অতিক্রম করার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে।
-
প্রশাসনের রাতভর মাইকিং: বাংলা-অসম সীমান্তবর্তী এলাকা এবং কোচবিহারের বক্সিরহাট ও আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশ নদীর (Sankosh River) অববাহিকায় জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কায় রাতভর মাইকিং করা হয়। ব্লক প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-
আতঙ্কে গ্রাম খালি: রামপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্কোশ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তায় আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন। নিজেদের গবাদি পশু এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রামপুর সহ আশেপাশের গ্রামগুলির শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসেন।
দুর্গতদের সহায়তায় মাঠে আরএসপি: হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ
এমন এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে রিভোলিউশনারি সোশালিস্ট পার্টি (RSP)। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ, খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়তার জন্য দলের জেলা শাখা ও যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
আরএসপি-র বক্তব্য: আরএসপি-র ছাত্র সংগঠন PSU আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক রাজীব হুসেন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন:
“আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আরএসপি-র কর্মী এবং ছাত্র-যুব সংগঠন সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। বিপদের মুহূর্তে এলাকার মানুষ যেন আমাদের প্রকাশিত হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে পারেন, তার সমস্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও উদ্ধারকারী দল
পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, বক্সিরহাট ও আলিপুরদুয়ারের স্পর্শকাতর এলাকায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) টিম মোতায়েন রাখা রয়েছে। একই সঙ্গে ধুবড়ি এলাকাতেও জারি হয়েছে বিশেষ বন্যা সতর্কতা। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া আটকাত সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।


