দেশে বাক্স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের উপর ক্রমশ একতরফা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে—এই মর্মে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নাগরিকদের অধিকার হরণের পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ, ভ্লগার, ইউটিউবার এবং স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জীবনের সেভিংস, ফিক্সড ডিপোজ়িটের জমানো পুঁজিতে থাবা! পিএনবি-র গ্রাহকদের ৩৫ কোটি টাকা গায়েব
‘এক্স’ হ্যান্ডেলে সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ একটি সুদীর্ঘ বিবৃতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।
-
মৌলিক অধিকারের অবমাননা: তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সংবিধানের ১৪ (সমতার অধিকার), ১৯ (বাক্স্বাধীনতা) এবং ২১ (প্রাণের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা)—এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের প্রতি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো শ্রদ্ধাবোধ বা গুরুত্ব নেই।
-
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা: সেন্সরশিপের এই স্বেচ্ছাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে একজোট হয়ে লড়াই করার ডাক দিয়ে তিনি জানান যে, ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এবং স্বাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।
নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রের নীতি নিয়ে প্রশ্ন
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ নাগরিকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্থা করা বা তাঁদের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার চেয়ে সরকারের মূল ফোকাস হওয়া উচিত দেশের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উত্তর-পূর্ব ভারতের চলমান সংবেদনশীল পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিটি কোণায় সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই মুহূর্তে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগান কাণ্ডে সরব অভিষেক, তুললেন বিজয়-তমোঘ্ন-দেবদীপের গ্রেফতারির দাবি
দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মেগা সমাবেশ ও প্রতিবাদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ও জোরালো মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে বিরোধীদের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছে।
-
রামলীলা ময়দানের কর্মসূচি: চলতি সপ্তাহের শেষেই দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
-
মূল দাবি: ভোটার তালিকায় কথিত ব্যাপক অনিয়ম ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির।
-
জনতার ইমপিচমেন্ট: জানা গিয়েছে, রবিবারের মূল সমাবেশের আগে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি পালনেরও পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী দলগুলির।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব ও সিপিএম নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মমতার এই সোচ্চার ভূমিকা জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের মঞ্চকে আরও বেশি শানিত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


