বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার ১২ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। এই ঘটনায় একটি ৭ বছরের শিশুসহ মোট ১৯ জনের প্রাণহানির পর এবার তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আয়োজকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারের আইন শৃঙ্খলা ও বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘আবার ভোট হোক ৬ মাসে’, সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি অভিষেকের
বিজেপি নেতাদের দিকে সরাসরি আঙুল অভিষেকের
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, ওই জনবহুল ও বিশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের নেপথ্যে থাকা আয়োজকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই কি তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে না?
অভিষেকের তোলা মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
আয়োজক কমিটির পদাধিকারী কারা: অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিজেপির জেলা সভাপতি তমাঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেবদীপ অধিকারীর নাম প্রকাশ্যে এসেছে।
-
জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তারির দাবি: ঘটনার এত দিন পরেও কেন এই তিন প্রভাবশালী বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হলো না? রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোই কি এর নেপথ্যের কারণ?
“চুনোপুঁটি ধরে ১৯ জনের মৃত্যুর দায় এড়ানো যাবে না”
বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-এর তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ঘটনায় কেবল দু’-এক জন চুনোপুঁটি বা নিম্নস্তরের কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ১৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক দায় এড়ানো সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে কার ঠিক কী গাফিলতি বা ভূমিকা ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক।
বিজয় ওঝা, তমাঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীকে অবিলম্বে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তে এনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বেআইনি ৭ কোটি টাকা জমা হয়েছিল যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে, অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিতের বিস্ফোরক বয়ান
ক্ষমতার অহংকার চিরস্থায়ী নয়: কড়া হুঁশিয়ারি
রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের দম্ভ দেখিয়ে কাউকে যে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না, সে বিষয়েও এদিন তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—যাঁরা ক্ষমতার অলিন্দ থেকে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। তদন্তে কোনো রকম গাফিলতি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং সত্যকে চাপা দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টার ভবিষ্যতে তীব্র জবাবদিহি করতে হবে।
১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।


