কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে চরবৃত্তি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে এক কর্মরত ভারতীয় সেনা জওয়ানকে গ্রেফতার করল পঞ্জাব পুলিশের স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেল। ধৃত জওয়ানের নাম রাজবীর সিংহ। তিনি মূলতঃ পঞ্জাবের বাসিন্দা।
শুক্রবার ধৃত জওয়ানকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে পঞ্জাব পুলিশের হেফাজতে ২ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে উদ্ধার কোটি টাকার ব্রাউন সুগার! দুই মহিলাসহ গ্রেফতার ৩
অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা ও গোপন তথ্য পাচার
সরকারি আইনজীবী সৌমিত্র সিংহ সরকার সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর। পঞ্জাবের ফাজিলকা থানায় স্টেট স্পেশ্যাল অপারেশন সেলের পক্ষ থেকে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
-
অভিযোগের ধরন: মামলায় নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ তোলা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত দুই জওয়ান সেনা ছাউনি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান, নকশা ও সংবেদনশীল নথি অনলাইনের মাধ্যম ব্যবহার করে পাকিস্তানের আইএসআই-এর হাতে তুলে দিতেন।
-
হাসিমারা থেকে গ্রেফতার: তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রাজবীর সিংহ গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাসিমারা সামরিক এলাকা সংলগ্ন অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্জাব পুলিশের তদন্তকারী দল তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
শিলিগুড়ি আদালত ও পঞ্জাবে স্থানান্তরের নির্দেশ
শুক্রবার পঞ্জাব পুলিশ ধৃত রাজবীরকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে হাজির করায়।
-
ট্রানজিট রিমান্ড: আদালতের নির্দেশানুসারে, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে অভিযুক্তকে পঞ্জাবের ফাজিলকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (ACJM) আদালতে হাজির করাতে হবে।
-
পঞ্জাব রওয়ানা: আদালতের এই অনুমতির পরেই পঞ্জাব পুলিশের যৌথ তদন্তকারী টিম ধৃত জওয়ানকে নিয়ে কড়া নিরাপত্তায় পঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিকোচ্ছে পেঁয়াজ, ছ্যাঁকা দিচ্ছে ভোজ্য তেল, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের
বৃহত্তর আন্তর্জাতিক চক্রান্তের খোঁজে তদন্ত সংস্থা
এই ঘটনার নেপথ্যে সশস্ত্র বাহিনীর অন্দরে কোনো বড়সড় আন্তর্জাতিক গুপ্তচর নেটওয়ার্ক বা ‘হানি ট্র্যাপ’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটির পাশাপাশি অন্য কোনো স্ট্র্যাটেজিক ক্যাম্পের তথ্য পাচার হয়েছে কি না এবং রাজবীর ছাড়া আর কোন কোন জওয়ান এই দেশবিরোধী চক্রান্তে জড়িত, তা জানতে ধৃতকে মুখোমুখি জেরা করা হবে।


