বিশেষ বাজারদর ও অর্থনীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন:
দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর আনন্দ শেষ হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই। রান্নার গ্যাসের চিন্তা, শাকসবজির চড়া দাম এবং বিশেষ করে পেঁয়াজ ও ভোজ্য তেলের আকাশছোঁয়া দরে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। পাইকারি ও খুচরো বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা পর্যন্ত উৎসবে বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে দাম এখনই কমার কোনো ইঙ্গিত নেই।
আরও পড়ুনঃ বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের! ইরান, রাশিয়া-সহ ২৪ দেশে সফরে নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার
পেঁয়াজের দাম কেন চড়া? সরকারি বাফার স্টকের প্রভাব কোথায়?
বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন খুচরো বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
-
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য: মানিকতলা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান বাবলু দাস জানিয়েছেন, “পুজোর পরও কালীপুজো এবং ভাইফোঁটা পর্যন্ত বাজারে চাহিদা তুঙ্গে থাকবে। উৎসবের মরসুমে বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহের খরচ বাড়ায় দাম চড়া থাকতে বাধ্য।”
-
সরকারি উদ্যোগ ও বাস্তবতা: উৎসবের মরসুমের কথা ভেবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র সরকার সরকারি বাফার স্টক (Buffer Stock) থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৪০০ টন পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি দরে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মানিকতলা, শ্যামবাজার, কোলে মার্কেটসহ প্রায় ২৫টি সরকারি আউটলেটে কম দামে বিক্রি শুরু হলেও সাধারণ ছোট পাড়ার বাজারগুলিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি।
ভোজ্য তেলের বাজারে আগুন: সর্ষে ও বাদাম তেল ২০০ ছুঁইছুঁই
রান্নার তেল—বিশেষ করে সর্ষের তেল এবং বাদাম তেলের দাম ২০০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করায় মাথায় হাত পড়েছে আমজনতার।
-
উৎপাদন কম ও আবহাওয়ার কোপ: গত ২৯ অক্টোবরের ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি খরিফ মরসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া ও খরার কারণে বাদাম ও সয়াবিনের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শুধু বাদামের উৎপাদনই প্রায় ২০ শতাংশের বেশি কমতে পারে বলে অনুমান।
-
আমদানি বৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের ভোজ্য তেল আমদানি ১৬৫ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ১৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
-
আমদানি শুল্ক কমানোর প্রভাব: ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্র সরকার অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের শুল্ক ১০% থেকে কমিয়ে শূন্য এবং সয়াবিন ও পাম তেলের শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ৫% করেছে। তবে পাইকারি বা আমদানির খরচ কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে খুচরো বাজারে তার সুবিধা পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানাচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
জাতীয় গড়ে ভোজ্যতেলের পাইকারি দরের রূপরেখা
কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতরের (৩১ অগাস্টের তথ্য) জাতীয় গড় পাইকারি দর অনুযায়ী ভোজ্যতেলের কাঠামোগত চিত্রটি তুলে ধরা হলো:
| ভোজ্যতেলের ধরণ | জাতীয় গড় পাইকারি দর (প্রতি লিটার/কেজি) |
| সর্ষের তেল (Mustard Oil) | চড়া চাহিদায় উচ্চমুখী |
| সয়াবিন তেল (Soybean Oil) | আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্কের ওপর নির্ভরশীল |
| পাম তেল (Palm Oil) | শুল্ক হ্রাসের পর পরিবর্তনের অপেক্ষায় |
| বাদাম তেল (Groundnut Oil) | স্থানীয় উৎপাদন ২০% কমায় সর্বোচ্চ চড়া |
(দ্রষ্টব্য: এটি জাতীয় গড় পাইকারি দর, কলকাতার স্থানীয় খুচরো বাজারে পরিবহণ ও মুনাফা যুক্ত হয়ে এর দাম আরও কিছুটা বেশি।)
আরও পড়ুনঃ ‘বড় চোর জেলে যাবেই, ভাবছেন তো কবে?’, ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
চিনির বাজারে কিছুটা স্বস্তি, কিন্তু সার্বিক দাম কমবে কবে?
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মধ্যে একমাত্র চিনির দাম সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আপাতত স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কবে কমতে পারে দাম?
ব্যবসায়ী ও বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কালীপুজো ও ভাইফোঁটার উৎসব মিটলে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা কিছুটা কমবে, ফলে নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ পেঁয়াজের দর কিছুটা নামতে পারে। তবে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কাঁচামালের দাম ও আমদানি খরচের ওপর ভিত্তি করেই খুচরো দর নির্ধারিত হবে। ফলে খুব দ্রুত বাজারদর স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।


