বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন থেকে শুরু করে তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার আইনি বিপাকে পড়ার পর এবার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সমাবেশ থেকে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেন তিনি। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে বড় চোর কবে জেলে যাবে? বড় চোর যাবেই, চিন্তা করবেন না। সময়টা দেখে সব করতে হয়। রাজনীতিতে আমি সব সহ্য করি, ধৈর্য ধরি।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্তঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ ব্যারাকপুরে পদ্মশিবিরের চরম গৃহযুদ্ধ! দলের কর্মীদের থেকে ‘গো ব্যাক’ শুনতে হল কৌস্তুভকে
“বেবি আর আন্টি চা খাচ্ছেন”: দিল্লির অলিন্দে বাম-তৃণমূল ‘সেটিং’ বিতর্ক
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের একাংশের যৌথ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনসভা থেকে জোড়া রাজনৈতিক দলকে একলপ্তে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী।
-
বেবি-আন্টি কটাক্ষ: আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে অন্ধকারে রেখে দিল্লিতে কেরলের সিপিএম নেতৃত্বের (বিশেষত পলিটবুরো সদস্য এম এ বেবি) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতার খবর চাউর হতেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। খোঁচা দিয়ে বলেন, “সিপিএম আর তৃণমূল এখন এক হয়ে গিয়েছে। ‘বেবি’ আর ‘আন্টি’ এখন একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন!”
-
কলকাতার জমি হারানোর দাবি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি যোগ করেন, “সাহস থাকলে আবার নির্বাচনে লড়ুন, আপনাকে আবার হারাব। আপনারা কলকাতায় না থেকে সব সামলাতে দিল্লি ছুটছেন। দিল্লি যান, পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের আর কিচ্ছু হবে না। হেরে গিয়ে একটা দলের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটেছে।”
আরও পড়ুনঃ “আমি চন্দ্রনাথ রথ হতে চাই না, দিল্লিতে সেটিং হয়ে গেছে”; অপসারিত তৃণমূল মুখপাত্র রিজু দত্তের বিস্ফোরক মন্তব্য, রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড়
“৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন, কিন্তু ৬ মাস কোথায়?”: অভিষেককে পাল্টা খোঁচা
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। বারুইপুরের সভা থেকে নাম না করে অভিষেকের সেই অভিযোগেরও কড়া জবাব দেন শুভেন্দু।
-
গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিরোধীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ স্তব্ধ করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও অবাধ নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি।”
-
সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন: ডায়মন্ড হারবারের রেকর্ড জয়ের ব্যবধানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৭ লক্ষ ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন, কিন্তু বছরের ৬ মাস উনি কোথায় থাকেন?”
ইন্দ্রনীল সেন এবং অজিত মাহাতোর মতো প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেফতারির পর ‘বড় চোর জেলে যাবে’ সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রীর এই দৃঢ় মন্তব্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক তদন্ত ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।


