বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, দুর্গাপুর:
শারদীয়া দুর্গাপূজার বাদ্যি বাজার ঠিক এক মাস আগেই দেবী আবাহনের মেজাজ তৈরি হয় পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের রূপগঞ্জ গ্রামে। গ্রামের ঘোষ (গোয়ালা) পরিবারের কুলদেবী মা ভগবতী। দুর্গাপূজার মতো দেবী ভগবতীর পূজাও ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত শক্তিশালী নিম্নচাপ; বাংলাজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা
প্রতিমার রূপ ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য
মা ভগবতী মূলত মহাশক্তি দেবী দুর্গারই অপর এক রূপ। তবে রূপগঞ্জের এই প্রাচীন প্রতিমার রূপে রয়েছে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য:
-
দেবী রূপ: দেবী ভগবতী এখানে দ্বিভূজা (দুই হাত বিশিষ্ট) এবং সিংহের ওপর আসীন।
-
সহচরীবৃন্দ: মূল মণ্ডপে দেবীর সাথে অবস্থান করেন দেবী লক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতী, এবং দুই পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া।
-
অনন্য সমাপতন: দেবী ভগবতীর সপ্তমীর ঠিক এক মাস পর অনুষ্ঠিত হয় শারদীয়া দুর্গাপূজার সপ্তমী।
পূজাবিধি ও পারিবারিক রীতিনীতি
ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ঘটে জল ভরাট ও দেবীর আবাহনের মাধ্যমে এই আরাধনা শুরু হয়।
| দিন ও সময় | শাস্ত্রীয় নিয়ম ও আচার |
| সূচনা | ভাদ্র মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে নিবেদিত উপবাস ও ঘট স্থাপনের মাধ্যমে পূজার শুভ সূচনা। |
| অষ্টমী ও নবমী | ভক্তিভরে গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের উপবাস পালন। নবমীর তিথিতে প্রথা অনুযায়ী পাঠা বলির রীতি বিদ্যমান। |
| দশমী | পাঁচ দিনব্যাপী আরাধনা শেষে নিয়ম মেনে বিসর্জন ও বিজয়ার উৎসব পালন। |
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা ও মেট্রোয় সক্রিয় পকেটমার চক্র! মোবাইল-মানিব্যাগ সামলাতে মানুষ
গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল:
শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের আধুনিকতার মাঝেও রূপগঞ্জ গ্রামের ঘোষ পরিবারের এই ‘রাধাষ্টমীর ভগবতী পুজো’ শতবর্ষের অতীত ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে আজও সগৌরবে টিকিয়ে রেখেছে। পরিবারের সকল সদস্য এবং গ্রামবাসীদের যৌথ অংশগ্রহণে এই দিনগুলিতে রূপগঞ্জ গ্রাম এক উৎসবমুখর মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।


