বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
বাংলায় প্রত্যক্ষ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা না থাকলেও পুজোমুখী রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি গভীর নিম্নচাপটি অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম উপকূলে আছড়ে পড়লেও, স্থলভাগে ঢুকে এটির গতিপথের ‘ডান-হাতি বাঁকে’র কারণেই দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গ—সর্বত্রই মেঘলা আকাশ ও দুর্যোগের পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত শক্তিশালী নিম্নচাপ; বাংলাজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা
কেন দূরত্বের পরও বাংলায় দুর্যোগ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, অতি গভীর নিম্নচাপটি বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবেশ করার পর সোজা ছত্তীসগঢ়ের দিকে না গিয়ে উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে বাঁক নিয়ে ওড়িশার অন্দরে ঢুকে আসবে।
-
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ভূমিকা: একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ক্রমশ পূর্ব দিকে সরে আসার কারণে তার অক্ষরেখাই নিম্নচাপটিকে নিজের দিকে টেনে আনবে।
-
বাতাসের সংঘাত: হিমালয়ের পাদদেশে পুবালি ও পশ্চিমী বাতাসের মুখোমুখি সংঘাতের দরুণ উত্তরাখণ্ড, নেপাল, সিকিম ও উত্তরবঙ্গে ঝেঁপে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
-
ঐতিহাসিক নজির: এর আগে ২০১৩-র ‘পিলিন’, ২০১৪-র ‘হুদহুদ’ কিংবা ২০১৮-র ‘তিতলি’ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে বাঁক নেওয়ার ফলে বাংলায় বা নেপালে ভারী বিপর্যয় নেমে এসেছিল।
অঞ্চলভিত্তিক বৃষ্টির পূর্বাভাস ও তাপমাত্রা
আবহাওয়া দফতরের আউটলুক অনুযায়ী আগামী ৩ দিন পশ্চিমবঙ্গের সাথে নিম্নচাপের দূরত্ব কমবে এবং পুরো রাজ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে:
| অঞ্চল | সম্ভাব্য প্রভাব ও বৃষ্টির পরিমাণ |
| দক্ষিণবঙ্গ | পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ (২০০ মিমি পর্যন্ত)। ঝাড়খণ্ডেও প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস। |
| উত্তরবঙ্গ ও সিকিম | জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টি; দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। |
| কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা | আগামী ২৪ ঘণ্টা আকাশ মেঘলা থাকবে। দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া বইবে। |
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা ও মেট্রোয় সক্রিয় পকেটমার চক্র! মোবাইল-মানিব্যাগ সামলাতে মানুষ
কলকাতা ও আশপাশের আবহাওয়ার চিত্র
-
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৮° সেলসিয়াস / ২৫° সেলসিয়াস।
-
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৯% (সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত: ৪০-৮০ মিমি)।
-
আবহাওয়ার অনুভূতি: সারাদিন বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে ভ্যাপসা গরম কম থাকবে, ফলে আবহাওয়া মোটের ওপর আরামদায়ক ও মনোরম থাকবে।
বিশেষ সতর্কতা: জলজমা বা নিচু এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।


