অর্থনৈতিক সংবাদ প্রতিনিধি:
দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মুখে রান্নার তেলের আকাশছোঁয়া দামে লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং খুচরা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন কাঁচা ও রিফাইন্ড তেলের ওপর বেসিক কাস্টমস ডিউটি (BCD) উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। নতুন এই শুল্ক ছাড় কার্যকর হওয়ার ফলে আগামী দিনে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশে গত এক বছরে ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে মিষ্টি ও ভাজাভুজির উৎপাদন বাড়ায় তেলের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। সেই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ ‘ভাতা নয়, আত্মনির্ভর বাংলা গঠনই লক্ষ্য’; মিলনমেলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মুখে বুদ্ধবাবুর কথা
ভোজ্যতেলে নতুন শুল্কের হিসেব
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্কে যে পরিবর্তন এসেছে:
| তেলের ধরন | পূর্ববর্তী শুল্ক (BCD) | পরিবর্তিত নতুন শুল্ক |
| কাঁচা সয়াবিন ও পাম তেল | ১০% | ৫% |
| রিফাইন্ড সয়াবিন ও পাম তেল | ৩২.৫% | ২৭.৫% |
| কাঁচা সূর্যমুখী তেল | ১০% | ০% (সম্পূর্ণ ছাড়) |
| রিফাইন্ড সূর্যমুখী তেল | ৩২.৫% | ২২.৫% |
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্য কারণ ও আমদানির চিত্র
ভারত বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তেলই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করতে হয়।
-
আন্তর্জাতিক সংকট: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং ‘এল নিনো’ (El Niño)-র কারণে চরম আবহাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
-
কার্যকর করের ভূমিকা: এর আগে চলতি বছরের মে মাসে কাঁচা তেলের ওপর বেসিক কর ১০ শতাংশ করা হলেও অন্যান্য সেস (AIDC ও Social Welfare Surcharge) যুক্ত হয়ে কার্যকর শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৬.৫ শতাংশে।
আরও পড়ুনঃ মহালয়ায় ইডেনে ৩ হাজার ঢাকি ও ৪ হাজার শঙ্খবাদকের মেগা আবাহন! গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার মহোদ্যোগ
বাজার ও কৃষকদের ওপর প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানি করা তেলের দাম যেমন কমবে, তেমনই দেশীয় তেলবীজ চাষিদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।
শিল্পমহলের এক আধিকারিক জানান, বেসিক আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ কমানোর ফলে দেশীয় বাজারে সয়াবিনের দাম সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) ওপরে রাখতে সুবিধা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও রফতানিকারক দেশগুলোর কৌশলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত খুচরো দাম নির্ভর করবে।


