বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
“পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পর এবার সত্যি শিল্পের জোয়ার আসছে।” মিলনমেলা প্রাঙ্গণ থেকে রাজ্যজুড়ে নতুন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা দিয়ে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শহরের ১১টি শিল্পতালুকে ৩৩টি শিল্প সংস্থার হাতে জমির অ্যালটমেন্ট লেটার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন তিনি। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, এই মেগা জমি বণ্টনের মাধ্যমে আগামী দিনে রাজ্যে ৬০ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের আমলে কোনো প্রকার তোলাবাজি বা প্রশাসনিক হেনস্থা সহ্য করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ ভরা সভায় দলীয় কোন্দল! মন্ত্রী শারদ্বত ও বিধায়ক পীযূষের তুমুল বাক-বিতণ্ডা; অস্বস্তিতে পদ্মশিবির
বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ
বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শিল্পনীতির কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
বাম আমলের সমালোচনা: তৎকালীন বাম সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কমিউনিস্টরা হরতাল ও স্ট্রাইক করে বাংলার শিল্পাঞ্চল ধ্বংস করেছে। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্প চাইলেও তাঁর দলের নীতি ছিল নেতিবাচক। ২০০৬ সালে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারি নিয়ে তৎকালীন রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভুল স্বীকার করতে হয়েছিল।”
-
তৃণমূল জমানার তোপ: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে তিনি যোগ করেন, “আগের সরকার এসেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা শিল্পকে জমি দেবে না। কিন্তু জমি ছাড়া শিল্প আকাশে বা জলে হতে পারে না। বাংলা কেবল ভাতার ওপর নির্ভর করে চলছিল, কিন্তু এই সরকার আত্মনির্ভর বাংলা গঠনে বিশ্বাসী।”
বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি
শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের আস্থা ফেরাতে রাজ্য সরকারের গ্রহণ করা একগুচ্ছ নতুন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী:
| বিষয় ও বিভাগ | ঘোষিত সুবিধা ও সরকারের অবস্থান |
| নতুন জমি নীতি | আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় নতুন জমি নীতি ঘোষণা করা হবে। |
| ইনসেনটিভ ও ছাড় | রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ আর্থিক ইনসেনটিভ প্রদান করা হবে। |
| নিরাপত্তা ও হেল্পলাইন | কোনো প্রকার তোলাবাজি বা সমস্যা হলে সরাসরি যোগাযোগের জন্য সচিবালয়ে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর চালু রয়েছে। |
| সরাসরি বৈঠক | শিল্পপতিদের সমস্যার কথা শুনতে মুখ্যমন্ত্রী মাসে দু’বার সরাসরি ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ বৈঠক করবেন। |
আরও পড়ুনঃ মহালয়ায় ইডেনে ৩ হাজার ঢাকি ও ৪ হাজার শঙ্খবাদকের মেগা আবাহন! গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার মহোদ্যোগ
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বৃহৎ প্রজেক্ট
বক্তব্যে রাজ্যে প্রতিরক্ষা ও ভারী শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জুুনপুটে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মিসাইল কেন্দ্রের জন্য কেন্দ্রকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়াও, শিল্পপতি আদানি গ্রুপের নতুন হাসপাতালের ভূমিপূজন এবং হর্ষ নেওটিয়া ও জিন্দাল গোষ্ঠীর সাথে আসন্ন বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
“ছেলেমেয়েরা শুধু চাকরি খুঁজবে না, তারা নতুন উদ্যোগপতি হবে”—এই বার্তা দিয়ে পিতৃপক্ষ শুরুর আগেই শিল্পপতিদের দ্রুত কাজ শুরু করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।


