বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতি এখন তোলপাড়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই এবার সরব হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ইস্তফা না দিলে দেশজুড়ে ফের ‘যন্তর মন্তর ভার্সন ২’ ধাঁচের তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই দল।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে দলের তিন শীর্ষ প্রতিনিধি অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আরও পড়ুনঃ কমে গেল দাম ৬০০ টাকা! সস্তা হয়ে গেল রান্নার গ্যাস?
সিজেপি-র ৩ দফা মূল দাবি
সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন ও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় ৩টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়:
| ক্রমি নং | দাবির ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| ১ | সিইসি-র পদত্যাগ ও মামলা | মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে। কার নির্দেশে তিনি এসব কাজ করেছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। |
| ২ | নির্বাচন স্থগিত ও এসআইআর বাতিল | আসন্ন সমস্ত নির্বাচন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে সমস্ত নথি সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন তাঁরা। |
| ৩ | নতুন নিয়োগ আইন | ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। |
“সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী”: ক্ষোভে ফেটে পড়লেন দীপকে
সাংবাদিক বৈঠকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং তিনি সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আমরা সারা দেশজুড়ে আন্দোলনে নামব। তিনি ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা একচুলও পিছু হটব না।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুন মাসে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সিজেপি। সেই আন্দোলনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন এবং শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। এবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও ঠিক একই ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
আরও পড়ুনঃ পাহাড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছ প্রবল বৃষ্টি; ধসে বিপর্যস্ত সিকিম, হাই অ্যালার্ট নেপাল ও ভুটানেও
প্রেক্ষাপট: নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীকে না জানিয়েই ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বিয়োজন ও এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান এই দুই কমিশনার। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে ‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি নাগরিক সমাজও এখন সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।


