বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংবাদ প্রতিনিধি:
সৌরজগতের বাইরে গভীর মহাকাশ থেকে ভেসে আসা এক বিশেষ রেডিও তরঙ্গ সফলভাবে শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ‘মিরক্যাট’ (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই সংকেতটি কোনো নক্ষত্র থেকে নয়, বরং সরাসরি ‘বেটা পিক্টোরিস বি’ নামের একটি দানবাকৃতির গ্রহ থেকে ভেসে আসছে।
বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে সৌরজগতের বাইরের কোনো বহিরগ্রহের (Exoplanet) নিজস্ব রেডিও তরঙ্গকে তার মাতৃ-নক্ষত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হলো।
আরও পড়ুনঃ বড় খবর; শিয়ালদা দক্ষিণে একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল
রহস্যময় গ্রহ ‘বেটা পিক্টোরিস বি’-এর পরিচয়
২০০৮ সালে আবিষ্কৃত এই গ্রহটি মহাজাগতিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বেশ অনন্য:
-
আকার ও ভর: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)-র তথ্য অনুযায়ী, গ্রহটি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়েও প্রায় ১২ গুণ বড়।
-
আবর্তন ও পরিক্রমণ: নিজের নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে গ্রহটির সময় লাগে প্রায় সাড়ে ২৩ বছর। তবে এটি অত্যন্ত দ্রুত অক্ষীয় গতিতে ঘোরে— মাত্র ৮ থেকে ৯ ঘণ্টাতেই এখানে একদিন পূর্ণ হয়।
সংকেতের উৎস: এলিয়েন নাকি প্রাকৃতিক ঘটনা?
সংকেতটি পাওয়ার পর ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও বিজ্ঞানীরা তা স্পষ্ট খারিজ করে দিয়েছেন। এটি কোনো কৃত্রিম সংকেত নয়, বরং গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট এক অতি-শক্তিশালী প্রাকৃতিক মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’ (Aurora)-র প্রভাব।
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও তথ্য |
| সংকেতের প্রকৃতি | দ্রুত ঘূর্ণন গতি এবং প্রচণ্ড চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ায় গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে তীব্র মেরুপ্রভা সৃষ্টি হয়, যা থেকে এই শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ উৎপন্ন হচ্ছে। |
| চৌম্বক শক্তির মাত্রা | ‘বেটা পিক্টোরিস বি’-এর চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের তুলনায় প্রায় ২,৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। |
আরও পড়ুনঃ কাশীবোস লেন থেকে সিংহী পার্ক, এবার এসি ট্রামে চেপে পুজো পরিক্রমা
বিজ্ঞানের জগতে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের কোনো দূরবর্তী গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতি ও শক্তি পরিমাপ করা সম্ভব হলো। বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডল সংরক্ষণ ও জীবন ধারণের উপযোগী পরিবেশ মূল্যায়নে চৌম্বক ক্ষেত্রের ভূমিকা অপরিসীম। এই সফলতা মহাবিশ্বের অন্যান্য রহস্যময় গ্রহ অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলে দিল।


