বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী ‘অলি পাব’ (Olypub)-এ মাংস পরিবেশন সংক্রান্ত সম্প্রতি ঘটা একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বিশিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে হোটেলের ওয়েটার শেখ নাসিরুদ্দিনের গ্রেপ্তার ও জেল খাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সায়ক চক্রবর্তী শুরুতে দাবি করেছিলেন, তাঁর নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ভুল খাবার পরিবেশন করা হয়েছে এবং সেখানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ব্রাহ্মণ সন্তান, আপনারা এটা কী করে করতে পারলেন?” যদিও পরবর্তীতে অলি পাব কর্তৃপক্ষের তরফে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হলে সায়ক নিজের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সততা ও নীতিতে আপসহীন বঙ্গবার্তা’; রাজ্য নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো রাজনৈতিক আর্থিক প্রলোভনে পা দেয়নি চ্যানেল
বিতর্ক ও বিরোধীদের তোপ
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। বাম ও শাসকদলের সমর্থকদের অভিযোগ, এই ঘটনায় বিরোধীদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বিজেপি ও ডানপন্থী শিবিরকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন:
-
আদর্শের দ্বিমুখী অবস্থান: অতীতে বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বিফ (গরুর মাংস) খেলে যাঁরা ‘হিন্দুত্ব, ধর্ম ও সংস্কৃতি’ গেল বলে তীব্র প্রতিবাদ ও নৈতিকতার পাঠ দিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সমর্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলে তাঁরা নীরব কেন?

-
প্রচার ও নৈতিকতা: বিজেপির প্রচারের কাজে যুক্ত থাকা কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করলে কেন তা স্বাভাবিক বিষয় বা সাধারণ ‘কনটেন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে?
-
আইনি ও সামাজিক প্রভাব: একজন সাধারণ রেস্তোরাঁ কর্মীকে কেবল ভুলের কারণে পুলিশি গ্রেফতারির মুখোমুখি হতে হলো, যা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পার্ক স্ট্রিটের গোমাংস বিতর্ক ও সায়কের গ্রেফতারি; বিজেপির নির্বাচন খরচের তালিকায় কোটি টাকার ইউটিউবার-যোগ ঘিরে শোরগোল
রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল নির্যাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি কেবল একটি রেস্তোরাঁর ভুল পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি খাদ্যপছন্দ, জাতপাত ও নির্বাচনী প্রচারের নৈতিকতাকে কেন্দ্র করে একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
| বিষয় | সমালোচকদের অভিযোগ ও বক্তব্য |
| বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রসঙ্গ | প্রকাশ্যে খাবার খাওয়া নিয়ে বিরোধীরা তৎকালীন সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক ধর্মানুভূতির দোহাই দিয়েছিল। |
| সায়ক চক্রবর্তী প্রসঙ্গ | সায়কের অভিযোগে সাধারণ ওয়েটারের জেল খাটার পর অভিযোগ প্রত্যাহার হওয়ায় বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান ও ‘দ্বিমুখী নীতি’ প্রশ্নবিদ্ধ। |
বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, নিজেদের ক্ষেত্রে যা “সাধারণ কনটেন্ট বা প্রচার কৌশল”, অন্যদের ক্ষেত্রে সেটিকেই “ধর্মীয় ও সামাজিক অপমান” হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া রাজনীতির এক চরম সুবিধাবাদী চরিত্রকে তুলে ধরে।


