আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের প্রাক্কালে রবিবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শেষবেলার জমজমাট প্রচার পর্ব সম্পন্ন হলো। নিজের ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে সকাল থেকেই টানা প্রচার চালান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
টেঙ্গুয়ার মোড় থেকে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রায় শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলান ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী অরূপকুমার দাস এবং প্রার্থী হাসিরানি। পদযাত্রা শেষে বিতর্ক বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “১০ মার্চ দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ পালন করলে কেমন হয়?”
আরও পড়ুনঃ সত্যি হল জল্পনা; পদ্মের টিকিটে রাজ্যসভার পথে কোয়েল
‘পা ভাঙা’ বিতর্ক ও তদন্তের হুঁশিয়ারি
২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারের ঘটনার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ্যে এনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শুভেন্দু:
-
মেডিকেল রিপোর্টের দাবি: বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রেডিয়োডায়গনোসিস বিভাগের ২০২১ সালের ১১ মার্চের একটি চিঠি ও রিপোর্ট উঁচিয়ে দেখান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারি নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—মমতার পায়ে ‘ফ্র্যাকচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি’।
-
তদন্তের নির্দেশ: নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, ভোটের জন্য নন্দীগ্রামবাসীকে অপমান করা হয়েছিল। উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হলেই এই ‘মিথ্যা প্রচার’ এবং সরকারি চিকিৎসকদের ওপর চাপের বিষয়ে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেবে নতুন রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ ‘গোড়ালিতে কালশিটের দাগ ছিল, রক্ত নয়! হাড়ে চোট না থাকা সত্ত্বেও প্লাস্টার’, ‘বঙ্গ পিসি’ মমতার পা ভাঙা বিতর্কে এবার বিস্ফোরক দাবি শান্তনু…
ভোটের অঙ্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর
প্রচার পর্বের শেষ দিনে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনেই নানা সমীকরণ সামনে আসছে:
| বিধানসভা কেন্দ্র | রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রচারের মূল দিক |
| নন্দীগ্রাম | ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম ছাড়েন শুভেন্দু। বিজেপি প্রার্থীর বড় ব্যবধানে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “নন্দীগ্রামের ৭২ হাজার সংখ্যালঘু ভোটারের বড় অংশ এবার পদ্ম শিবিরের সঙ্গেই হাঁটছেন।” |
| রেজিনগর | সাবেক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করার পর নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র টিকিটে ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছেন। উল্টোদিকে তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী, কংগ্রেসের আবদুল্লাহিল কাফি ও সিপিআই(এম)-এর মহম্মদ সইদ লড়ছেন। বিরোধী ভোট মেরুকরণের সুবিধায় জয়ের সম্ভাবনা দেখছে বিজেপি। |
রবিবার বিকেল থেকে ভোট প্রচারের বিধিনিষেধ কার্যকর হতেই উপনির্বাচনের প্রস্তুতিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা আগামী মঙ্গলবার ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণের।


