প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে বিরোধী শক্তিগুলি। মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজী পার্ক থেকে দিল্লির যন্তর মন্তর—একাধিক জায়গায় এই বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) সহ বেশ কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে কলকাতায় বড়সড় কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এই আবহে আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদেশি অর্থ সাহায্য (Foreign Funding) এবং কম বয়সি ছাত্র-যুবদের বিপথে চালিত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ব্যারাকপুরের এই বিজেপি বিধায়ক।
আরও পড়ুনঃ কি মজা, ১০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস পালন! সব ছুটি? সব বন্ধ?
‘বিদেশি ফান্ডিং’ ও সেলেবদের ভূমিকা নিয়ে খোঁচা
মুম্বই ও দিল্লির প্রতিবাদ মঞ্চে নাসিরুদ্দিন শাহ এবং বিশাল দাদলানির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান কৌস্তভ বাগচী:
- জনভিত্তিহীন নেতৃত্বের অভিযোগ: কৌস্তভের দাবি, “যাঁদের সাধারণ মানুষের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা অ্যাকসেপ্টেন্স নেই, তাঁরাই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে পারসেপশন তৈরির চেষ্টা করছেন।”
- অর্থিক উৎসের প্রশ্ন: এই ধরণের বৃহৎ আন্দোলন চালনা করার পেছনে বিপুল অর্থ ও লোকবল কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর সাফ অভিযোগ—এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পেছনে বিদেশি ফান্ডের (Foreign Funds) প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে।
- তৃণমূল যোগের ইঙ্গিত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন ও তৃণমূলের ইন্ধন নিয়েও সরব হন তিনি। দাবি করেন, নিজস্ব রাজনৈতিক জমি হারিয়েই বিরোধীরা প্রক্সি আন্দোলনের আশ্রয় নিচ্ছে।
‘বেগন স্প্রে’র কড়া হুঁশিয়ারি ও আইনি বার্তা
বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলে তোপ দেগে বিজেপি বিধায়ক সতর্কবার্তা দেন:
|
বিষয় / ক্ষেত্র |
কৌস্তভ বাগচীর রাজনৈতিক মন্তব্য ও হুঁশিয়ারি |
|
আন্দোলন দমনের সময়সীমা |
“এই ধরণের আন্দোলন গুঁড়িয়ে দিতে (Crush করতে) বিজেপির মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় লাগবে।” |
|
‘স্প্রে’ কটাক্ষ |
“বাড়িতে আরশোলা-মাকড়সার উৎপাত বাড়লে যেমন সবাই বেগন বা হিট স্প্রে ব্যবহার শুরু করে, তেমনই বেশি উৎপাত করলে তা প্রয়োগ করতে বাধ্য হতে হবে।” |
|
প্রশাসনিক সহনশীলতা |
গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে বলেই সরকার ও দল এখনও পর্যন্ত সহনশীলতা দেখাচ্ছে বলে জানান ব্যারাকপুরের বিধায়ক। |
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির এই দ্বৈরথ এবার রাজ্য রাজনীতির দরবারে পৌঁছোনোয় শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।


