বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া এবং ১৬ থেকে ২১ অক্টোবরের দুর্গাপূজার ঠিক মুখেই বঙ্গোপসাগরে আবার ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগ। একাধিক গ্লোবাল আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ট্রপিক্যাল সিস্টেম বা ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধতে শুরু করেছে, যা শারদোৎসবের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের বড়সড় আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি অনুকূল সামুদ্রিক পরিবেশ পেলে তা দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে (Tropical Cyclone) রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ তিলোত্তমার নতুন ‘বড়বাজার’; বিধান রায়ের স্বপ্নের সল্টলেকে লাগামছাড়া ব্যবসায়িক দাপট
সম্ভাব্য ট্রপিক্যাল সিস্টেমের সময়সূচি ও গতিপথ
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ট্র্যাক করা টাইমলাইন অনুসারে সম্ভাব্য ঝড়ের গতিপ্রকৃতি নিম্নরূপ:
-
৯–১০ অক্টোবর (মহালয়ার দিন): উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত (Cyclonic Circulation) তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
-
১২–১৩ অক্টোবর: সমুদ্র থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে সিস্টেমটি দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে মধ্য বঙ্গোপসাগরে সুনির্দিষ্ট গভীর নিম্নচাপে (Deep Depression) পরিণত হতে পারে।
-
গতিপথ ও ল্যান্ডফল: প্রাথমিক গতিপথ উত্তর-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে হলেও, পরবর্তীতে সমুদ্র পৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে এটি বাঁক নিয়ে (Re-curvature) উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলে এর প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কি মজা, ১০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস পালন! সব ছুটি? সব বন্ধ?
এক নজরে উৎসবের আবহাওয়া ও প্রাক-উৎসব সতর্কতা
| সময়কাল / পর্ব | আবহাওয়ার সম্ভাব্য রূপ ও প্রভাব |
| ৯ – ১০ অক্টোবর (মহালয়া) | আন্দামান সাগরে ঘূর্ণাবর্তের আগমন; উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আংশিক মেঘলা আকাশ ও হালকা বর্ষণ। |
| ১৩ – ১৫ অক্টোবর (পঞ্চমীর প্রাক্কাল) | সিস্টেমের গভীর নিম্নচাপে রূপান্তর; সমুদ্রে উত্তাল তরঙ্গ ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা। |
| ১৬ – ২০ অক্টোবর (ষষ্ঠী থেকে নবমী) | সিস্টেমটি স্থলভাগে প্রবেশ করলে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। |
যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, সিস্টেমটির চূড়ান্ত শক্তি ও ল্যান্ডফলের সুনির্দিষ্ট স্থান জানার জন্য পরবর্তী ২-৩ দিনের রাডার ও স্যাটেলাইট ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুজোর কেনাকাটা ও মণ্ডপ সজ্জার শেষ মুহূর্তে এমন ঘূর্ণাবর্তের উপ উপস্থিতি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তাদের কপালে।


