বিশেষ প্রতিনিধি:
নেপালের প্রলয়ংকারী হড়পা বানে ভেসে যাওয়ার পর কেটে গেছে এক মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু আজও কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবারে ফেরেনি প্রিয়জন। সাবেক তৃণমূল নেতা ও প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা কাঁচরাপাড়ার সাবেক বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা রায় ভৌমিকের আজও কোনো খোঁজ মেলেনি। এদিকে নেপালের বেলান্দর শাহ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করে ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে মনোযোগ দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছে। উদ্ধারপর্ব স্থগিতের এই খবরে আশার আলো এক প্রকার নিভে আসার উপক্রম হলেও হাল ছাড়তে নারাজ পরিবার। অবুঝ দুই সন্তানকে আগলে রাখা শুভ্রাংশু রায় এবার সশরীরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি, কম্পন অনুভূত হল হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও
ভয়াবহ ২৬ আগস্ট: মানস সরোবরের পথেই উধাও শর্মিষ্ঠা
গত ২১ আগস্ট কোলকাতা থেকে একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার সাথে কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় রওনা হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা রায় ভৌমিক।
-
শেষ বার্তা: ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ স্বামী শুভ্রাংশুর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। ২৬ আগস্ট ভোরে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে চিনের দিকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল ওই পর্যটক দলটির।
-
হড়পা বানের থাবা: ২৬ আগস্ট ভোরে নেপালের কিয়রং ও সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বান নেমে এলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
-
সন্তানদের অপেক্ষা: ছোট দুটি সন্তানকে বাবার জিম্মায় রেখেই বহুদিনের লালিত স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। এক মাস ধরে মায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে তারা।
আরও পড়ুনঃ আকাশবাণী ভবন থেকে আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা; বিরোধী দলনেতাকে ‘টেনেহিঁচড়ে’ বাসে তোলে পুলিশ
১৮৯ জন ভারতীয়ের খোঁজে কূটনৈতিক জট
নেপাল প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ১,৪৫৫ ছাড়িয়েছে এবং ৫,২৮৫ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুর, দুর্গাপুর, কলকাতার বাসিন্দাসহ ১৮৯ জন ভারতীয় নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, যার মধ্যে শর্মিষ্ঠা অন্যতম।
| বিষয় | প্রশাসনিক অবস্থান ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া |
| রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগ | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দফায় দফায় রায় পরিবারের সাথে কথা বলে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল সরকারের সাথে যোগাযোগের আশ্বাস দিয়েছেন। |
| শুভ্রাংশু রায়ের পদক্ষেপ | নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ বন্ধ হতেই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারে কড়া নাড়ছেন তিনি। |
| আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা | আন্তর্জাতিক সীমানা এবং উদ্ধারকাজ স্থগিত হওয়ায় ডিএনএ স্যাম্পলিং ছাড়া কোনো নিশ্চিত পথ দেখতে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। |
আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রায় পরিবারের উদ্বেগ এখন তুঙ্গে। স্ত্রীর জীবিত বা মৃত কোনো খবর না পেয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার আর্জিই মুকুল-পুত্রের শেষ সম্বল।


