বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক লগ্নে দাঁড়িয়ে এক আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী নতুন ভারতের ছবি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘উন্নত ভারত সংকল্প সভা’-র মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন দেশবিরোধী শক্তিকে কড়া রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দিলেন, তেমনই ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ৬ দফা মূল লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন তিনি।
এদিন সকালে সরোজিনী নগরের শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন সুরে জানান, এই দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। কর্মীদের পাশে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট প্রদীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন—“কর্মই আমার ধর্ম।”
আরও পড়ুনঃ প্রশাসক হিসেবে মোদীর রজতজয়ন্তী; মুখ্যমন্ত্রী থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী
অতীতের সঙ্গে বর্তমান ভারতের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী নাম না করে পাকিস্তানকে নিশানা করে বলেন:
“আজ অনুচ্ছেদ ৩৭০ পুরোপুরি অতীত, আর দেশে নকশালদের কোমর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন জঙ্গিরা নির্ভয়ে এ দেশে ঘুরে বেড়াত, একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলা চলত কিন্তু দেশের মানুষ ধরে নিয়েছিল এর বোধহয় কোনো সুরাহা নেই। তবে এখন সময় বদলে গিয়েছে! আজ এক শক্তিশালী ভারত দেখছে বিশ্ব, যেখানে আমরা ‘ঘরে ঢুকে মেরেছি’ (ঘর মে ঘুস কে মারা)। এই নতুন ভারতে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই।”
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ পরোক্ষে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, আগে বিশ্বের কোথায় সংকট এলে ভারতের অর্থনীতি কেঁপে উঠত, কিন্তু আজ ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম মজবুত অর্থনৈতিক স্তম্ভ।
২০৪৭-এর ‘উন্নত ভারত’: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৬টি প্রধান লক্ষ্য
দেশের সার্বিক রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিজের ভাষণে ৬টি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী:
-
২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত: স্বাধীনতার ১০০তম বর্ষ উদযাপনের আগেই ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা।
-
বিশ্বের সেরা ৩ অর্থনীতি: ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির দেশের তালিকায় প্রথম সারিতে নিয়ে আসা।
-
স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর ভারত: প্রতিটি ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে শতভাগ ‘আত্মনির্ভর’ করে তোলা।
-
গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব: উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বের প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং কেন্দ্রে উন্নীত করা।
-
মহাকাশ ও প্রযুক্তির আধিপত্য: মহাকাশ গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বসেরা আধিপত্য কায়েম করা।
-
বিশ্বমানের অলিম্পিক আয়োজন: আন্তর্জাতিক স্তরের সর্বাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে ভারতে অলিম্পিক গেমসের মেগা আয়োজন করা।
আরও পড়ুনঃ হায় রে, এ কি করলেন মহুয়া! ‘টেনে সরাতে যেতেই হাত কামড়ে দিলেন সাংসদ!’ আইনি জটে আরও কোণঠাসা বিরোধী নেতৃত্ব
বিবেকানন্দের আদর্শ ও কর্মীদের আত্মত্যাগ
ভাষণের শেষলগ্নে স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করে মোদী বলেন, কোটি কোটি দেশবাসীর আশীর্বাদ এবং দলীয় কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমই আজ তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে আমি একদিনের জন্যও একা মনে করিনি। প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা ঘটনা থেকে শিখেছি। প্রশাসনিক প্রধান হতে পারি, কিন্তু আমি আজীবন নিজেকে একজন ‘শিক্ষার্থী’ বলেই মনে করি।” মোদীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল—২৫ বছরের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই আগামী দিনে ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে নতুন উদ্যমে ঝাঁপাতে চলেছে কেন্দ্র।


