বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডি (INDIA) জোটের সাংসদদের রণক্ষেত্র আন্দোলনের আবহেই তৈরি হলো নজিরবিহীন বিতর্ক। দিল্লি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং আটক এড়াতে এক মহিলা পুলিশকর্মীর হাতে কামড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সোচ্চার সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে চলা অবস্থান-বিক্ষোভ চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বাড্রে এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের আটক করতে শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সেই সময় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও প্রিভেন্টিভ কাস্টডিতে নেওয়ার জন্য এগোয় মহিলা পুলিশের একটি দল।
আরও পড়ুনঃ প্রশাসক হিসেবে মোদীর রজতজয়ন্তী; মুখ্যমন্ত্রী থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী
ঘটনাস্থলের বিবরণ ও পুলিশের গুরুতর দাবি
দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভস্থল থেকে মহুয়া মৈত্রকে সরাতে গেলে চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক মহিলা পুলিশকর্মী তাঁকে ঘেরাও করে বাসে তোলার চেষ্টা করেন।
-
কামড়ানোর নজিরবিহীন অভিযোগ: পুলিশের দাবি, টানাহেঁচড়ার সময় নিজের অবস্থান বজায় রাখতে এবং চাড়িয়ে বাসে তোলা আটকাতে কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশকর্মীর ডান হাতে সজোরে কামড়ে দেন তৃণমূল সাংসদ।
-
জখম পুলিশকর্মী: ঘটনার পরপরই ওই আহত মহিলা পুলিশকর্মীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হয়।
-
ভিডিও ও সাক্ষ্য গ্রহণ: অন-ডিউটি পুলিশকর্মীর ওপর হামলা ও শারীরিক আক্রমণের অভিযোগে গোটা দৃশ্যের সিসিটিভি (CCTV) ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ‘দাবি, মানা সম্ভব নয়’, রাহুলদের বিক্ষোভের পর মুখ খুলল কমিশন
আইনি জটে আরও কোণঠাসা বিরোধী নেতৃত্ব
ইতিমধ্যেই বিনা অনুমতিতে আকাশবাণী ভবনে অনধিকার প্রবেশ ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। তার ওপর অন-ডিউটি পুলিশ অফিসারের ওপর আক্রমণের এই নতুন চাঞ্চল্যকর নালিশ যোগ হওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও জামিনঅযোগ্য ধারায় পৃথক মামলা রুজু হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে।
| বিষয় | দিল্লি পুলিশের অভিযোগ ও পদক্ষেপ | তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া |
| অভিযোগের ধরন | সরকারি কাজে বাধা, মহিলা পুলিশকর্মীকে কামড়ে আক্রমণ ও শারীরিক নিগ্রহ। | আন্দোলনকে ভেস্তে দিতে এবং মূল ‘ভোটচুরি’র ইস্যু ঘোরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। |
| সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ | বিএনএস (BNS)-এর নির্দিষ্ট ধারায় সরকারি কর্মীকে আঘাত ও কাজে বাধার মামলা। | কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিত পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সংঘাত জারি রাখার ঘোষণা। |
সাংসদদের টেনে-হিঁচড়ে বাসে তোলা এবং পুলিশের ওপর কামড়ানোর এই অভিযোগে দিল্লির রাজপথের ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ আন্দোলন এখন আইনি ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


