বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার রাজপথ ও আকাশবাণী ভবনের অভূতপূর্ব সংঘাত এবং গভীর রাতে ছাড়া পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ECI) ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়াতে নামল ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রোটোকল সম্পর্কিত যুক্তি উড়িয়ে দিতে এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জাহির করতে এবার যৌথ সই সংগ্রহের নতুন কৌশল নিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই লক্ষ্যেই বুধবার দুপুর দেড়টায় দিল্লির জনপথের একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় বিরোধী জোটের সাংসদদের নিয়ে এক হাই-প্রোফাইল ‘মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক’-এর আয়োজন করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই তার রেশ কাটতে দিতে রাজি নয় কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের ফুল বেঞ্চের মুখোমুখি হওয়ার যে অনড় অবস্থান বিরোধীরা নিয়েছে, তাকে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
লঞ্চ ডিপ্লোম্যাসি ও সই সংগ্রহের কৌশল
রেস্তোরাঁর এই মধ্যাহ্নভোজ কেবল সৌজন্যমূলক নৈশভোজ বা বৈঠক নয়, বরং কমিশনের যুক্তি নস্যাৎ করার কৌশলগত পদক্ষেপ:
-
২৪০ জন সাংসদের সই সম্বলিত আবেদন: মঙ্গলবার কমিশন দাবি করেছিল যে ২৪০ জন সাংসদকে নিয়ে অ্যানেক্সে বৈঠকের দাবি প্রোটোকল বহির্ভূত এবং লিখিত আবেদন করা হয়নি। এই অযুহাত খণ্ডন করতে মধ্যাহ্নভোজে উপস্থিত সমস্ত ‘ইন্ডি’ সাংসদদের থেকে একযোগে সই সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন সদনে পাঠানো হবে।
-
কমিশনের ‘প্রতিনিধি দল’ নীতির জবাব: কমিশন জানিয়েছিল, নির্দিষ্ট দলের সুনির্দিষ্ট ছোট প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই কেবল দেখা করা সম্ভব। কিন্তু বিরোধীদের দাবি—যেহেতু বিরোধী জোটের ২৪০ জন সাংসদ যৌথভাবে অভিযোগ তুলেছেন, তাই সবাইকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঘর মে ঘুসকে মারা’ নাম না করে পাকিস্তানকে বার্তা মোদির
নির্বাচন কমিশন বনাম ইন্ডি জোট: চাল ও পাল্টা চাল
| বিষয় | নির্বাচন কমিশনের (ECI) অবস্থান | ‘ইন্ডি’ জোটের কৌশলগত পদক্ষেপ |
| বৈঠকের প্রোটোকল | নির্দিষ্ট দলীয় প্রতিনিধি দলের সাথে নির্বাচন সদনে সময় মেনে বৈঠক সম্ভব। | ২৪০ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা গণ-আবেদনপত্র জমা দিয়ে বৃহৎ প্রতিনিধি বৈঠকের দাবি। |
| আন্দোলনের ধারা | মঙ্গলবার বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়মবিরুদ্ধ ও প্রশাসনিকভাবে অসম্ভব। | মধ্যাহ্নভোজের আড়ালে ঐক্যবদ্ধ রণকৌশল তৈরি করে কমিশনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধি। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | পুলিশের মারফতে বার্তা না পাঠিয়ে নিয়মানুগ আসার নির্দেশ। | সই সংগ্রহ শেষে পুনরায় নির্বাচন সদনে প্রতিনিধিদল বা বৃহৎ জমায়েতের ডাক। |
জনপথের এই মধ্যাহ্নভোজের বৈঠক থেকে সই সংগ্রহ শেষ হলে বিরোধী নেতৃত্ব কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সই করা আবেদন পেশ করবে কিনা এবং নির্বাচন কমিশন এবার কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক মহল।


