রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ মিটতেই বেনজির রাজনৈতিক ড্রামা মুর্শিদাবাদে! উপনির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝে রাজপথেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু রাজ্য পুলিশ ও শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘রিগিং’-এর গুরুতর অভিযোগ তোলাই নয়, ভোটে পরাজয়ের দায় নিজের ছেলে তথা দলীয় প্রার্থী গোলাম নবি আজ়াদ ওরফে রবিনের ওপর চাপিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে ‘গদ্দার’ এবং ‘ভীতু’ বলে আক্রমণ করলেন তিনি। পাল্টা বাবাকেই মানসিক ‘হতাশ’ (Frustrated) বলে কটাক্ষ করেছেন পুত্র গোলাম।
মঙ্গলবার রেজিনগরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন রাজ্য পুলিশের ওসির সঙ্গে তুমুল তর্ক-বিতর্ক ও জামার কলার ধরে হেনস্থার পর পুলিশি হেফাজতে রাত কাটান হুমায়ুন। বুধবার সন্ধেয় ছাড়া পেয়েই অশ্রুসজল চোখে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এই বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
আরও পড়ুনঃ টেনে রাহুলকে গাড়িতে তুলল পুলিশ, যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বাধা! আটক বিরোধী সাংসদেরা
পুত্রকে ‘গদ্দারী’র তোপ ও হুমায়ুনের বিস্ফোরক দাবি
ছেলের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানান, নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিশ্বাস করে ছেলেকে দাঁড় করানোই তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য: “আমি পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় ওকে বার্তা দিয়েছিলাম পার্টি অফিস ধরে রাখতে ও কর্মীদের মনোবল বাড়াতে। কিন্তু সাহসিকতা দেখানো তো দূর, ও ভয় পেয়ে কর্মীদের বুথ ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে বলে! এটা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ ও রাজনৈতিক গদ্দারী ছাড়া আর কিছুই নয়। ওর মতো ভীতু ছেলের রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়, ওর ব্যবসা সামলানোই ভালো।”
একই সাথে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, রেজিনগরে শুভেন্দুর দলই জিততে চলেছে। তবে রাজনৈতিক হতাশার মাঝেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন—মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ তিনি গড়ে তুলবেনই!
আরও পড়ুনঃ আজ ঝাঁজ বাড়বে বিক্ষোভের; ইন্ডি জোটের পিণ্ডি চটকাতে থাকছেন মমতাও, জাঁতাকলে কেন্দ্র ও কমিশন
পিতা-পুত্রের কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিজেপির তোপ
হুমায়ুন ও তাঁর পুত্রের মধ্যে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন বাকযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চড়েছে পারদ।
| চরিত্র/দল | বক্তব্য ও গৃহীত অবস্থান |
| গোলাম নবি আজ়াদ (পুত্র) | “বাবাকে ওসি জামার কলার ধরে ভ্যানে তুলেছে, এমন অপমান উনি জীবনে দেখেননি। বাবা প্রচণ্ড মানসিক ট্রমা ও ফ্রাস্ট্রেশনে (হতাশায়) এসব বলছেন। আমি কর্মীদের প্রাণ বিপন্ন করে ভোট করতে চাইনি।” |
| শাখারভ সরকার (বিজেপি প্রার্থী) | “হুমায়ুন কবীর নাটক করতে ওস্তাদ! অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বাজে কথা বলেছিলেন, মানুষ ব্যালটে তার জবাব দিয়ে দিয়েছে। নিশ্চিত হার বুঝে এখন সহানুভূতি কুড়োতে নতুন নাটক করছেন।” |
আগামী ৯ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলপ্রকাশের আগেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এমন প্রকাশ্যে ভেঙে পড়া এবং পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।


