বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় পরিবর্তনের মেঘ। আবহাওয়া দপ্তর ও আবহাওয়াবিদদের তাজা বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গাঙ্গেয় উপত্যকায় অতি সক্রিয় হওয়া বৃষ্টিবলয় ‘তুহিন’-এর প্রভাবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই আকাশ কালো করে ধেয়ে আসতে পারে আকস্মিক দামামা ও প্রবল ঝোড়ো হাওয়া।
জরুরি নজরদারিতে যে সমস্ত জেলা
আগামী কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির এই প্রভাব দেখা যাবে। বিশেষ সতর্কবার্তার আওতায় রাখা হয়েছে—
-
মধ্য ও উত্তর দক্ষিণবঙ্গ: মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান।
-
দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকা: কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তৃত অঞ্চল।
ঝড়ের চরিত্র ও বর্ষণের মাত্রা
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই দুর্যোগের মূল বৈশিষ্ট্য হলো আকস্মিকতা ও তীব্রতা।
-
বিক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী: বৃষ্টিপাত টানা দীর্ঘক্ষণ না হলেও যেসব এলাকায় মেঘ জমবে, সেখানে স্বল্প সময়েই ভারী মাত্রায় জল ঢালতে পারে।
-
আকস্মিক দমকা হাওয়া: মেঘ সঞ্চারের সাথে সাথেই ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে হঠাৎ দমকা হাওয়া বইতে পারে।
-
মারাত্মক বজ্রপাত: মেঘে মেঘে প্রবল ঘর্ষণের কারণে ভূমিতে শক্তিশালী বজ্রপাতের (Lightning strike) চরম সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মাঝ আকাশে বিকট শব্দ, ১৭০০০ ফুট উচ্চতায় বিমানে পড়ল বাজ
জরুরি সুরক্ষাবিধি ও পরামর্শ
| পরিস্থিতি | করণীয় এবং সতর্কতা |
| বজ্রপাতের সময় | খোলা মাঠে বা নদীর চরে অবস্থান করবেন না। দ্রুত কোনো নিরাপদ পাকা ছাদের নিচে আশ্রয় নিন। |
| গাছের নিচে আশ্রয় | বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা ধাতব কাঠামোর নিচে দাঁড়ানো চরম বিপজ্জনক হতে পারে। |
| যানবাহন চলাচল | ঝোড়ো হাওয়া ও দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণে পথচারী ও চালকদের গতি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। |
আগামী ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি অনুযায়ী দুর্যোগের মেঘ কাটার পর আকাশ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


