বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড়সড় নির্বাচনী পরীক্ষা। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের এই দুটি হাই-প্রোফাইল বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফল আজ, শুক্রবার। যদিও এটি উপনির্বাচন, তবে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন ৬ মাসের নতুন সরকারের অ্যাসিড টেস্ট বা ‘জনপ্রিয়তার প্রথম মাপকাঠি’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ পর্ব নির্বিঘ্নে ও হিংসামুক্তভাবে মিটলেও, ভোট শেষ হতেই নির্বাচন ঘিরে উঠে এসেছে রিগিং, ভোটলুট ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের ভূরি ভূরি অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ এবার কি মমতার হাত ছাড়ছেন নয়না? চৌরঙ্গীর রাজনীতিতে জল্পনার পারদ
ভোটদানের পরিসংখ্যান: এক নজরে
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিতর্ক ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই দুটি কেন্দ্রেই রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে।
| বিধানসভা কেন্দ্র | মোট ভোটদানের হার (%) | মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা / প্রার্থী |
| নন্দীগ্রাম | ৮০.৮৭% | হাসিরানি রথ (বিজেপি) বনাম মিলন প্রধান (কংগ্রেস-তৃণমূল জোট সমর্থিত)। |
| রেজিনগর | ৮০.০৭% | গোলাম নবী আজাদ (এজেইউপি), বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস। |
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর ‘মার্জিন বাড়ার’ দাবি, বিরোধীদের ভোটলুটের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখায় নন্দীগ্রামে এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। বিজেপি এই আসনে প্রার্থী করেছে তাঁদের নিহত দলীয় কর্মী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ-কে।
-
বিরোধীদের তোপ: কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অভিযোগ তুলেছেন, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বুথ দখল করে একতরফা ভোট করিয়েছে বিজেপি প্রার্থীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূল শিবির এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করায় লড়াই আরও জটিল আকার নিয়েছে।
-
শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাস: সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ২০১৬ ও ২০২১-এর চেয়েও বড় ব্যবধানে নন্দীগ্রামে জয়ী হবে বিজেপি।
রেজিনগরে হুমায়ুন নাটক: ‘রাজনীতি ছাড়ছি, রেজিনগরে ভোটলুট হয়েছে’
রেজিনগর আসন ছেড়ে হুমায়ুন কবীর নওদা আসনটি ধরে রাখায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) হয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
ভোটের দিন সকাল থেকেই চরম নাটকের সাক্ষী থাকে রেজিনগর। পুলিশ ও এসএসবি (SSB)-র ভূমিকা নিয়ে সওয়াল করায় হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ সাড়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে রাত ৯টায় মুক্ত করে।
আটক মুক্ত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার:
“আমাকে জোর করে আটকে রেখে পুলিশ আর আরএসএস (RSS)-এর লোকেরা মিলে রেজিনগরে একতরফা ভোটলুট চালাল। পুলিশি সিস্টেমের এই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। দুর্গাপুজো মিটলেই নওদায় জনসভা ডেকে চৌষট্টি বছর বয়সে সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেব।”
আরও পড়ুনঃ মহানন্দার ঘাট থেকে হিলকার্ট রোড; DYFI-এর মিছিলে উত্তাল শিলিগুড়ির রাজপথ
ফলাফলের মূল ইঙ্গিত
আজকের ফল কেবল দুই বিধায়ক নির্বাচন করবে না, বরং তিনটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেবে:
১. নতুন সরকারের জনপ্রিয়তা: ৬ মাসের মাথায় বিজেপি সরকারের ঝুলিতে মানুষ কতখানি আস্থা রাখল?
২. বিরোধী শিবিরের সমীকরণ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থিত কংগ্রেস ও সিপিআইএম জোট কি বিজেপির শক্তঘাঁটি নন্দীগ্রামে ফাটল ধরাতে পারবে?
৩. সংখ্যালঘু ভোটের বার্তা: রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের পরিবারের ভাগ্যে নাকি মূলস্রোতের কোনো দলের হাতে ভোট যাবে?
ভোটগণনা কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন রয়েছে ত্রিস্তরীয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসিটিভি নজরদারি। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ইভিএম (EVM) গণনা।


