ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং অপসারণের দাবিতে ১০ই অক্টোবরের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল জাতীয় রাজধানীতে। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের যৌথ আন্দোলন রুখতে পুলিশ ও কেন্দ্র যে নজিরবিহীন দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে, তাকে বিরোধীরা ‘জরুরি অবস্থা ও রণক্ষেত্রের শামিল’ বলে তোপ দাগিয়েছে।
শনিবার সকালে যন্তর-মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য তথা কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনরায়ি বিজয়ন, প্রবীণ মহিলা নেত্রী বৃন্দা কারাট এবং কে কে শৈলজা-সহ শীর্ষ বাম নেতৃত্বকে বলপূর্বক গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তোলে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবারই সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে দলগতভাবে এই গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে পা রাখতেও হল না, বিমান থেকেই আটক অভিজিৎ দীপকে; দিল্লি জুড়ে ধড়পাকড় চলছে, চড়ছে পারদ
গুজরাটেও আটক আন্দোলনকারীরা: চারশো ছাড়াল গ্রেপ্তারি
শুধু দিল্লিতেই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য গুজরাটেও এই আন্দোলনের আঁচ তীব্রভাবে আছড়ে পড়েছে। গুজরাট থেকে ট্রেনে ও বাসে দিল্লি আসার পথে শতাধিক সিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
এদিকে দিল্লিতে সব মিলিয়ে আটকের সংখ্যা ৪-শ থেকে হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। সকালেই মুম্বই থেকে আসা বিমানে ঢুকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। পাশাপাশি, গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠীকেও।
দিল্লি যেন এক রণক্ষেত্র: ধ্রুব রাঠীকে আটকের তীব্র প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ অমান্য করে প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার অপরাধে ধ্রুব রাঠীকে আটক করার পর সিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কড়া প্রতিক্রিয়া জারি করে জানিয়েছে:
“একনায়ক সেই সমস্ত তরুণ-তরুণীকে দেখে চরম আতঙ্কিত, যারা তাঁর অন্যায় ও ভোট চুরির অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং স্তব্ধ হতে অস্বীকার করছে।”
আটক হওয়ার আগে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে সুর চড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, “এক জ্ঞানেশ কুমারের পদ বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ কি দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছেন? দেশের যুবশক্তিকে ভয় পেলে উনি এখনও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে কেন?”
আরও পড়ুনঃ যন্তর-মন্তরে ৭ স্তরের ব্যারিকেড ও ইন্টারনেট স্তব্ধ; ২৫ হাজার পুলিশ-আধাসেনা, ‘যন্তর মন্তর ২’ আটকাতে প্রস্তুতি দিল্লিতে
স্তব্ধ ৪৫ মেট্রো ও বন্ধ ইন্টারনেট
পুলিশের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী দিল্লির রাস্তায় নেমে আসায় নয়াদিল্লি জেলাকে দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করা, দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল রাখা এবং জনপথ-কর্তব্য পথের ৪ কিমি ব্যাসার্ধজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে রাখা সত্ত্বেও আন্দোলনের উত্তাপ প্রশমিত করা যায়নি। অহিংস পথে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শেই এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিরোধী নেতানেত্রীরা।


