বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ:
মাত্র একটি প্রদেশে ক্ষমতায় টিকে ছিল দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল। এবার সেই শেষ দুর্গও দখল করে নিল কেন্দ্রীয় শাহবাজ শরীফ প্রশাসন। রবিবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশে পাক সংবিধানের ২৩২ এবং ২৩৪ ধারা কার্যকর করে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এর ফলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর হাতে থাকা শেষ প্রাদেশিক সরকারের পতন ঘটল।
আরও পড়ুনঃ ষড়যন্ত্রের শঙ্কা! ঢাকায় ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে ইসলামপন্থীরা বাঁধছে জোট
জরুরি অবস্থা জারির নেপথ্যে কী কারণ দেখাল কেন্দ্র?
জেলবন্দি পিটিআই সুপ্রিমো ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত ৫ অক্টোবর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে এক বিশাল পদযাত্রা শুরু করেছিলেন পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা। সাধারণ মানুষের লাগাতার প্রতিবাদ ও মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পাক রাজনীতি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবাজ শরীফের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর দমনপীড়নের পথ বেছে নেয়:
-
ব্যাপক গ্রেপ্তার ও দমনপীড়ন: পদযাত্রাকারীদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ করা হয় এবং অন্তত ২০০০ পিটিআই সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসলামাবাদের প্রধান রাস্তাগুলিতে কন্টেনার বসিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়।
-
‘জঙ্গি’ তকমা ও ব্যর্থতার অভিযোগ: কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদীদের সরাসরি ‘জঙ্গি’ বলে দেগে দেওয়া হয়। ইসলামাবাদের সাফ দাবি, প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পিটিআই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সেই অজুহাতকেই সামনে রেখে সংবিধানে জরুরি অবস্থার ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন চাপানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই, পিটিশন ফাইল করুন’: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে বড় ধাক্কা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের
প্রশাসনের হুঁশিয়ারি ও পিটিআই-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সল করিম কুন্ডি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “যারা আইন হাতে তুলে নেবে, তাদের ‘আয়রন হ্যান্ড’ (লোহার হাত) দিয়ে দমন করা হবে।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গোহার আলি খান। তিনি বলেছেন:
“এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভয়ংকর এক রাজনৈতিক ভুল। এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। খাইবার পাখতুনখোয়া এমনিতেই টিটিপি (TTP)-র আক্রমণে বারবার বিপর্যস্ত, জরুরি অবস্থা জারি করে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।”
ইমরান খানের বন্দিদশাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক ক্ষোভ এবং তার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ঘটনায় পাকিস্তানের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।


