কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিংয়ের সঙ্গে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাশাপাশি তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে গোর্খাল্যান্ড বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জোরালো হতেই তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কামতাপুর পিপলস পার্টি (কেপিপি)। তাদের কড়া হুঁশিয়ারি, উত্তরবঙ্গের অধিকার ও অস্তিত্বকে অবহেলা করে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ফের তীব্র আন্দোলন ও অশান্তি দেখবে উত্তরবঙ্গ।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের মরশুমে স্বস্তির নিঃশ্বাস দিঘার পর্যটকদের; চালু বিশেষ মোবাইল অ্যাপ
পাহাড়ের বৈঠকে কোন দাবি সামনে এল?
সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের একটি অভিজাত হোটেলে পাহাড়ি সমস্যা সমাধানে গঠিত কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সহসচিব অরবিন্দ খের এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, গোর্খাল্যান্ড অ্যাপেক্স কমিটি এবং ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের মতো প্রভাবশালী নেতৃত্ব।
বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ও দাবিগুলি ছিল:
-
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দাবি: গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সরাসরি পৃথক রাজ্যের দাবি থেকে সরে এসে তরাই ও ডুয়ার্সের ৩৯৬টি গোর্খা অধ্যুষিত মৌজাকে একটি নতুন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছে।
-
বিশাল এলাকা জুড়ে রাজ্য গঠনের দাবি: অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ড অ্যাপেক্স কমিটি এবং জনশক্তি ফ্রন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকের পাশাপাশি তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলকে নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠন না হলে পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব।
আরও পড়ুনঃ পুজোয় ভিটেমাটি বেচে উত্তরবঙ্গ-পুরী সফর! বাসভাড়া রকেটের গতিতে, থ্রি-এসির দামে ঝুলছে বাসের ছাদ!
কেপিপির তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ
পাহাড়ের দলগুলির এই বার্তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কামতাপুর আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে গোটা উত্তরবঙ্গ এবং অসমের কিছু অংশ নিয়ে পৃথক ‘কামতাপুর রাজ্য’ গঠনের দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসছে কেপিপি। অথচ তাদের সেই ঐতিহাসিক ও দীর্ঘদিনের দাবিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যদি তরাই-ডুয়ার্স নিয়ে গোর্খাল্যান্ড বা নতুন কোনো প্রশাসনিক বিন্যাসের রূপরেখা তৈরি করা হয়, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না।
সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে কামতাপুর পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “একতরফা মতামত নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার ফল হিতে বিপরীত হবে। গোটা উত্তরবঙ্গ নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথা কেন্দ্রীয় সরকার ভালোভাবেই জানে। সেই দাবি ও বাস্তবতাকে অমান্য করার চেষ্টা করা হলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে আবার তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে।”
পাহাড়ের স্বাধিকার বনাম সমগ্র উত্তরবঙ্গের কামতাপুর রাজ্যের এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক দাবির লড়াইয়ে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।


