মহাকাশে আরও এক বড় পদক্ষেপ ভারতের। গত রাতে ইসরোর জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটে মহাকাশে পাঠানো হল এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইট । কিন্তু কী কাজ করবে এই স্যাটেলাইট ?
আমরা যখন মোবাইলে রাস্তা খুঁজি, গাড়ি চালানোর সময় ম্যাপ দেখি, কিংবা প্লেন ও জাহাজের লোকেশন জানতে চাই, তখন সাহায্য নিতে হয় জিপিএসের। এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে আমেরিকা।
আরও পড়ুনঃ ভুটানে ফের বিপর্যয়! রাজধানী থিম্পুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, খালি করা হচ্ছে বসতি এলাকা
কিন্তু ভারতেরও নিজের একটা সিস্টেম রয়েছে। নাম নাভিক। আর সেই সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতেই মহাকাশে পাঠানো হয়েছে নতুন স্যাটেলাইট এনভিএস-০৩। NVS, ন্যাভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন
নাভিকের এই নতুন স্যাটেলাইট দিয়ে ভারত এবং তার চারপাশের প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত লোকেশন চিহ্নিত করা সম্ভব। শুধু সাধারণ মানুষের লোকেশন খোঁজার জন্য নয়, সেনাবাহিনী, যুদ্ধজাহাজ, বিমান, মৎস্যজীবী এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি।
নতুন স্যাটেলাইটে রয়েছে ভারতের তৈরি অত্যন্ত নিখুঁত একটা পারমাণবিক ঘড়ি। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর কোনও জায়গার অবস্থান নির্ণয় করতে সময়ের হিসাব একেবারে নিখুঁত হওয়া জরুরি। সেই কাজেই সাহায্য করবে এই অ্যাটমিক ওয়াচ ।
তবে এর পিছনে রয়েছে আরও বড় একটা কারণ।
ধরুন, যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই সময় আমেরিকা কোনও দেশের জন্য জিপিএসের ডিফেন্স সার্ভিস কম করে দিল। তাহলে সেই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভারত সেই নির্ভরতা কমাতে চাইছে। নিজের স্যাটেলাইট , নিজের টেকনোলজি , নিজের নেভিগেশন সিস্টেম ।
আমেরিকার রয়েছে জিপিএস, রাশিয়ার গ্লোনাস, চিনের বেইদৌ, ইউরোপের গ্যালিলিও। আর ভারতের নাভিক।
আরও পড়ুনঃ আইএসআই-কে গোপন তথ্য পাচার! হাসিমারা থেকে গ্রেফতার ভারতীয় সেনার জওয়ান
অবশ্য নাভিক এখনও আমেরিকার জিপিএসের মতো গোটা পৃথিবীজুড়ে সার্ভিস দেবে না। ভারতের লক্ষ্য আপাতত নিজের দেশ ও আশপাশের অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অর্থাৎ, মহাকাশে শুধু একটা স্যাটেলাইট পাঠানো নয়। ভবিষ্যতের যুদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সব ক্ষেত্রেই নিজের প্রযুক্তির উপর নির্ভর করার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত।
আর সেই কারণেই ইসরোর এই অভিযান এত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো
গত বছরের হিসেব প্রায় গোটা ২৫ স্মার্ট ফোন মডেলে নাভিক সাপোর্ট করত । আশা করা যায় এবার সেই সংখ্যাটা বাড়বে


