Monday, 24 August, 2026
24 August
HomeকলকাতাLeft Front: এক রাশ স্বপ্ন, কাজ-কাজ আর কাজ! শূন্যের ক্ষরা কাটাতে মরিয়া...

Left Front: এক রাশ স্বপ্ন, কাজ-কাজ আর কাজ! শূন্যের ক্ষরা কাটাতে মরিয়া দিশেহারা লাল শিবির

এবার সাধারণ মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বামেরা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কাজ-কাজ আর কাজ! ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়েই ইস্তেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। তা সে সরকারি চাকরি হোক কিংবা শিল্প বৃদ্ধি, সবেতেই কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতিতেও একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাদের। তবে, এর মধ্যে ভাতা বাড়ানোর কথাও কিন্তু বলেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ কমছে দেওয়াল, বাড়ছে ই-ওয়াল; পকেটে পকেটে ঘুরছেন প্রার্থীরা

ইস্তেহারের প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ওপর। বামফ্রন্টের প্রতিশ্রুতি, প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে স্থায়ী কাজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে দুটি করে চাকরির সুযোগ খোঁজার ব্যবস্থা করা হবে। শহরে বছরে ১২০ দিন এবং গ্রামে ২০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দৈনিক মজুরি হবে ৬০০ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণা রাজ্যের বেকার যুবকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।

নিয়োগ দুর্নীতির ইস্যুতে গত কয়েক বছর ধরে সরব ছিল বাম শিবির। সেই প্রেক্ষিতে ইস্তেহারে জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এসএসসি, পিএসসি ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।শিল্পায়ন নিয়েও বড় পরিকল্পনা সামনে এনেছে বামফ্রন্ট। ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবনের কথা বলা হয়েছে। নতুন সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পার্ক গড়ে তোলা এবং প্রতিটি জেলায় শিল্প তালুক তৈরির ঘোষণাও রয়েছে ইস্তেহারে।

কৃষকদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড়গুণ করার কথা বলা হয়েছে, যা কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৭০০ টাকা, সমকাজে সমমজুরি এবং নারী শ্রমিকদের জন্য ক্রেশের সুবিধা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গ ও কুইয়ার শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সমান অধিকার ও মজুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ১০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব, প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ এবং শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আজ কোচবিহারে মোদী; পালাবদলের অঙ্ক কষছে বিজেপি

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বন্ধ করা, আয়করদাতা নন এমন পরিবারকে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও নজর কাড়ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ইস্তেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করে দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় ‘অভয়া বাহিনী’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দরিদ্রদের জন্য মাসিক ৬ হাজার টাকা বার্ধক্য ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য পৃথক পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণে এ বার কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যায়নি বামফ্রন্ট। ISF-এর সঙ্গেও কোনও আসন সমঝোতা হয়নি। ফলে একাই লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে তারা। এখন প্রশ্ন, এই বিস্তৃত ইস্তেহার কি ভোটের মাঠে বামেদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে? তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

কোন-কোন ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছ একনজরে…

  • প্রতিটি পরিবার পাবে স্থায়ী কাজ
  • গরিব মানুষের জন্য বছরে ১২০ দিন (শহরে) গ্রামে ২০০ দিনের কাজ। দৈনিক ৬০০ মজুরি
  • ৫ বছরের মধ্যে SSC-PSCর মতো সরকারি চাকরির শূন্যপদ পূরণ
  • শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নূন্যতম ৭০০ টাকা। ৪টি শ্রমকোড রাজ্যে প্রয়োগ নয়
  • ১৬ টি ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য করা হবে দেড় গুণ
  • প্রিপেড স্মার্ট মিটার বন্ধ, ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দাম
  • নদীভাঙন রোধ। খাল-বিল-পুকুর বোজানোর বিরোধিতায় আইন
  • ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী। মহিলার ক্ষমতায়ন। প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী’,তামান্ন ও তিলোত্তমার ন্যায় বিচার
  • প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প। দরিদ্র প্রবীণদের জন্য ৬০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা।
  • সংখ্যালঘু,আদিবাসীদের জন্য স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল তৈরি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন