শিলিগুড়ি পুরনিগমের রাজনীতিতে এক বিরাট ওলটপালট ঘটে গেল। মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেব। দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, শুক্রবারই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সরকারি গাড়ি এবং নিরাপত্তারক্ষীর সুবিধাও পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তাঁকে দার্জিলিং জেলা সমতল তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার মেয়র পারিষদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা সকলকে জানিয়ে দেন।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে সরলেন গৌতম দেব, পদত্যাগ মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর ও আলিপুরদুয়ারের পুরপ্রধানদের
তৃণমূলের অন্দরের একটি বড় অংশের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার অন্য সমীকরণও দেখছেন। তাঁদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয় এবং পুরনিগম এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূলের তুলনামূলক খারাপ ফলাফলের নৈতিক দায় স্বীকার করেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন।
প্রবীণ এই নেতার আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পর শিলিগুড়ির পরবর্তী মেয়রের চেয়ারে কে বসতে চলেছেন তা নিয়ে এখন উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন সরকার বদলের পর এসজেডিএ ও অন্যান্য দুর্নীতি মামলা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হওয়াতেই আগেই সরে গেলেন। যদিও কোনও দুর্নীতিতে সরাসরি তাঁর নাম জড়ানোর খবর সামনে আসেনি। তবে তাঁর আমলে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির মামলার নিষ্পত্তিতেও তাঁর কোনও সদিচ্ছা দেখা যায়নি। উল্টে তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী থাকাকালীন এসজেডিএ মামলায় পদক্ষেপ করায় শিলিগুড়ির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার কারলিয়াপ্পন জয়রামনকে রাতারাতি বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে হইচই হলেও শেষমেষ কয়েকজন ঠিকাদার ও কর্মী ছাড়া রাজনৈতিক মহলের কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হয়নি। অন্যদিকে তখনকার চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে সরিয়ে গৌতম দেবকে চেয়ারম্যান করা হলেও তারপরও মামলা ঝুলে রয়েছে।
গৌতম দেব পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক মহলের সমস্ত নজর এখন পরবর্তী মেয়র নির্বাচনের দিকেই আটকে রয়েছে। অল্প কয়েক মাসের জন্য হলেও এখন কাঁটার সিংহাসনে কে বসবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। মেয়র হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এখন এই পদে কেউ আদৌ বসতে চাইছেন না বলে পুরনিগম সূত্রের খবর।


