কুশল দাশগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি:
একদিকে ধোঁয়া ওঠা চা, অন্যদিকে থরে থরে সাজানো ইংরেজি বই, আর তার সঙ্গেই নানা অদ্ভুত ও অবাক করা গাছের সমাহার—এমন অদ্ভুত অথচ নজরকাড়া মেলবন্ধন চোখ পড়বে সেভক মোড়ে। এই ব্যতিক্রমী রসদ নিয়েই দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই ভাই গৌতম সন্ন্যাসী ও বাবলা সন্ন্যাসী।
আরও পড়ুনঃ আয়ের গতিতে বড় পতন; নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় কলকাতা পুরসভার রাজস্বে টান
ভগবানের আশীর্বাদ ও মানুষের ভালোবাসাই চালিকাশক্তি: বিগত আড়াই দশক ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ব্যবসা সামলাচ্ছেন এই দুই ভাই। কিন্তু ক্লান্তি তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ জানতে চাওয়া হলে তাঁরা হাসিমুখে জানান, “ভগবানের আশীর্বাদ আর মানুষের ভালোবাসাই আমাদের প্রধান শক্তি। বহু বিশিষ্ট মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পথচলতি ক্রেতা—সবাই আমাদের এই দোকানে এসেছেন।”

চা, বই ও গাছের মেলবন্ধনে সংসার: সাধারণ চায়ের দোকান তো চারিদিকে অগণিত, কিন্তু চায়ের সঙ্গে ইংরেজি সাহিত্যচর্চা আর দুর্লভ গাছের প্রতি অনুরাগ এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে তাঁদের দোকানে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে টানা দাঁড়িয়ে করা এই ব্যাবসার উপার্জনেই সুন্দরভাবে চলছে তাঁদের সংসার ও পরিজনদের দিনযাপন।
আরও পড়ুনঃ যোগ্যদের দ্রুত নিয়োগ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জলপাইগুড়িতে সরব আরওয়াইএফ-এর বিশ্বজিৎ সরকার
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ব্যবসায় কি আগামী দিনে আরও কোনো নতুনত্ব বা অভিনবত্ব দেখা যাবে? উত্তর দেওয়ার সময় অবশ্য কিছুটা রহস্য জিইয়ে রাখলেন দুজনে। গৌতম ও বাবলা সন্ন্যাসী দুজনেই মুচকি হেসে জানান, “দেখা যাক, ভবিষ্যৎ এবং সময়ই বলে দেবে আমরা নতুন কী আনতে চলছি।”
সেভক মোড়ের এই চায়ের দোকান কেবল তৃষ্ণা মেটানোর কেন্দ্র নয়, বরং বই ও গাছের মেলবন্ধনে পথচলতি মানুষের কাছে এক চিলতে মন ভালো করা আড্ডার ঠিকানাও বটে।


