কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব! শুক্রবার সকালে তিনি পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। ছাড়লেন গাড়ি ,নিরাপত্তা রক্ষীও!
বুধবার গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করে দল।বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেন গৌতম। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করলে তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয় মেয়র পারিষদদের মধ্যে। কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে যান মেয়র পারিষদরা। যেহেতু শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ আরও এক বছরেরও বেশি বাকি রয়েছে। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাইছিলেন না। তবে গৌতম তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শুক্রবারই তিনি ইস্তফা দেন। এবার সম্ভবত শিলিগুড়ি পুরনিগমও হাতাছাড়া হবে জোড়াফুল শিবির। নতুন করে অন্য কাউকে মেয়র করে বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। শিলিগুড়ি হাতছাড়া হলে উত্তরে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তৃণমূল। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।এর আগে বৃহস্পতিবার পুরনিগমে মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেন গৌতম দেব। বৈঠকেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। সূত্রের দাবি, সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মেয়র পারিষদদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একাংশ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন পদক্ষেপ দলকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। অন্যদিকে, গৌতম দেব নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এই মতভেদের জেরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েন মেয়র পারিষদরা। ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অ্যাকসেঞ্চারের এক সতর্কবার্তায় রক্তাক্ত দালাল স্ট্রিট, কয়েক মিনিটে উধাও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গৌতম দেবের পদত্যাগের পর নতুন কাউকে মেয়র করে পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখা তৃণমূলের পক্ষে সহজ হবে না। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বোর্ড ধরে রাখার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুরনিগমও তৃণমূলের হাতছাড়া হয়, তাহলে উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং পাহাড় থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত একাধিক এলাকায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। শিলিগুড়ির মতো কৌশলগত শহর হারানো সেই সংকটকে আরও গভীর করবে।
আরও পড়ুনঃ টাটকা ইলিশ ওঠেইনি, জামাইষষ্ঠীতে ফ্রোজেন ইলিশেই ভরসা; খোঁজ নিল bangabarta.com
এছাড়া বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের দু’টি এবং আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রধানরাও পদত্যাগ করেন। বহরমপুরের পুরপ্রধান তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এবং মুর্শিদাবাদের পুরপ্রধান ইন্দ্রজিৎ ধর পদত্যাগ করেন। তৃণমূল পরিচালিত আলিপুরদুয়ার পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে প্রসেনজিৎ কর, উপপুরপ্রধানের পদ থেকে মাম্পি অধিকারী ইস্তফা দেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে নাড়ুগোপাল বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুরের মানুষ স্পষ্ট ভাবে তাঁদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত এই বোর্ডের পুরপ্রধান হিসেবে আমার পদে থেকে যাওয়া নৈতিক ভাবে সঙ্গত বলে মনে হয়নি।’ এদিকে ইন্দ্রজিৎ বলেন, ‘বোর্ড অব কাউন্সিলর্সের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। মহকুমাশাসককেও ই-মেল করেছি।’ প্রসেনজিৎ বলেন, ‘পুরপ্রধানের সাম্মানিক কখনও নিইনি। যতটা সম্ভব, শহরের উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এই বিধানসভা নির্বাচনে শহরবাসী যে রায় দিয়েছেন, তাকে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করলাম।’


