পরামর্শদাতা সংস্থা অ্যাকসেঞ্চারের এক সতর্কবার্তাতেই শেয়ারবাজার থেকে উড়ে গেল লক্ষ কোটি টাকা। শুক্রবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী পরামর্শদাতা সংস্থা অ্যাকসেঞ্চারের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলিতে বিপুল ধস নামে। আইটি খাতে মন্দার আশঙ্কায় ইনফোসিস-টিসিএসের শেয়ারে হয় বড় পতন। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও নামতে থাকে শেয়ারবাজারের সূচক।
টানা পাঁচ দিন চাঙ্গা ছিল শেয়ারবাজার। তবে সপ্তাহের শেষ দিন, শুক্রবার বড় ধাক্কা খেল দালাল স্ট্রিট। তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি শেয়ারে ব্যাপক সেলিং হয়েছে। যার জেরে দিনের শুরুতেই অনেকটাই নীচে সেনসেক্স এবং নিফটি। অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভাল হওয়ার পরও নেমেছে বাজার।
আরও পড়ুনঃ টাটকা ইলিশ ওঠেইনি, জামাইষষ্ঠীতে ফ্রোজেন ইলিশেই ভরসা; খোঁজ নিল bangabarta.com
শুক্রবার সকালে সেনসেক্স ৭২৪.৩৪ পয়েন্ট বা ০.৯৪ শতাংশ পড়ে ৭৬,৬৮৫.৬৪-এ চলে আসে। অন্যদিকে নিফটি৫০ ২০১.৭০ পয়েন্ট বা ০.৮৩ শতাংশ পড়েছে। এই সূচক রয়েছে ২৩,৯৬৬.৩০ পয়েন্টে। সকাল ৯টা ২৫ মিনিট নাগাদ নিফটি গুরুত্বপূর্ণ ২৪,০০০-এর নীচে নেমে গিয়েছে। আর এটাই চিন্তায় ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের।
যদিও এই ক্র্যাশের আগে টানা পাঁচটি সেশনে সেনসেক্স প্রায় ৪.৮ শতাংশ এবং নিফটি ৪.৩ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আমেরিকা-ইরান ডিল এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলেই বিপদ বাড়ছে।
আজ, আইটি শেয়ারে বিরাট ক্র্যাশ এসেছে। ইনফোসিস ৭.৮৪ শতাংশ পড়েছে। এই স্টকে বড় পতন হয়েছে। এছাড়া টিসিএস ৫.৯১ শতাংশ, টেক মাহিন্দ্রা ৫.৫১ শতাংশ এবং এইচসিএলটেক ৫.১৩ শতাংশ নেমে যায়। আর আইটি স্টকের এহেন পতন গোটা শেয়ার মার্কেটকেই টেনে নামিয়েছে।
বাজারে ক্র্যাশ নেমেছে। তবে এখনও কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। আসলে আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তির পর অপরিশোধিত তেলের দাম বহু মাস পর কমেছে। যার ফলে ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। শুধু তাই নয়, গত কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপও অনেকটা কমেছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং শেয়ারগুলিতে শর্ট কভারিংয়ের জন্য উত্থান দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আনন্দ মাটি হতে পারে! বৃষ্টির রাতে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা খুব দরকার
এই প্রসঙ্গে জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার বলেন, ‘অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ব্যাঙ্কিং শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শর্ট কভারিং এবং তাদের বিক্রির গতি কমে যাওয়াও বাজারকে সাপোর্ট দিচ্ছে।’
ব্যাঙ্কিং শেয়ার ভালো অবস্থায়
আইটি শেয়ারে চাপ থাকলেও বাজারের কিছু সেক্টর এখনও স্ট্রং। এই যেমন এনটিপিসি ১.০১ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সান ফার্মা ০.৬০ শতাংশ, পাওয়ার গ্রিড ০.৪৯ শতাংশ, ট্রেন্ট ০.৪২ শতাংশ এবং ভারতী এয়ারটেল ০.৪২ শতাংশ উঠেছে।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে বিনিয়োগ করবেন না। তার আগে নিজে রিসার্চ করুন। পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তাহলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


