Monday, 29 June, 2026
29 June
HomeদেশIPS: IPS হওয়ার স্বপ্নপূরণে নজির; ৩৫ লক্ষের চাকরির অফার হেলায় প্রত্যাখ্যান

IPS: IPS হওয়ার স্বপ্নপূরণে নজির; ৩৫ লক্ষের চাকরির অফার হেলায় প্রত্যাখ্যান

লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকরিপ্রার্থীর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা অর্চিতের এই সাফল্যের গল্পটি ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে শেয়ার করে নেটিজেনদের নজরে এনেছেন বিকাশ অলওয়েজ নামের এক ব্যবহারকারী।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বার্ষিক ৩৫ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের বর্তমান যুবসমাজের খুব কম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটই নিতে পারবেন। কিন্তু দেশের সেবা এবং খাকি উর্দির টানে ঠিক এই অসাধ্যসাধনই করে দেখালেন আইআইটি দিল্লির এক মেধাবী প্রাক্তনী। কর্পোরেট দুনিয়ার বিলাসবহুল জীবন ও লোভনীয় প্যাকেজকে হেলায় প্রত্যাখ্যান করে, ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগ দেওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতেই এই কঠিন কিন্তু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার কথা জানিয়েছিলেন আগেই; এ বার জানালেন সময়সীমাও

জাপানি সংস্থার বার্ষিক ৩৫ লক্ষ টাকার লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রথম চেষ্টাতেই ভারতের কঠিনতম পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস-এ সাফল্য-আইপিএস অর্চিত চন্দকের এই অবিশ্বাস্য যাত্রাপথ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল। লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকরিপ্রার্থীর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা অর্চিতের এই সাফল্যের গল্পটি ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে শেয়ার করে নেটিজেনদের নজরে এনেছেন বিকাশ অলওয়েজ নামের এক ব্যবহারকারী। ওই পোস্ট অনুযায়ী, নাগপুরের বাসিন্দা অর্চিত ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি নিজের শহরে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন (জেইই)-এ শীর্ষ স্থান অধিকার করেন এবং আইআইটি দিল্লিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পড়ার সুযোগ পান।

নিজের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে মাত্র দু’বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০১৮ সালে, অর্চিত তাঁর প্রথম প্রয়াসেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাংক (এআইআর) ১৮৪ অর্জন করে বাজিমাত করেন। এই অভাবনীয় সাফল্যই তাঁর ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস)-র পেশাদার জীবনের সূচনা করে। এক্স পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, অর্চিত চন্দক প্রাথমিকভাবে নাগপুরের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি মহারাষ্ট্রের আকোলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্চিতের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে কুর্ণিশ জানিয়ে এক্স ব্যবহারকারী তাঁর পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে-জীবনের নিয়ন্ত্রণ সবসময় আমাদের নিজেদের হাতে থাকা উচিত। ভাবুন, ওঁর নিজের ওপর কতটা আত্মবিশ্বাস ছিল যে, ৩৫ লক্ষ টাকার একটি নিশ্চিত চাকরির অফার অনায়াসে ফিরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ শূন্য থেকে একদম নতুন একটি বিষয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন! নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস থাকলে সত্যিই যে কোনও মিরাকল ঘটানো সম্ভব।’

আরও পড়ুনঃ ‘চোর’ তৃনমূলের ভাগ্যে ডিমাস্ত্র, আর অপরদিকে খুদে কমরেডের সমাজ বদলের চিরস্থায়ী স্বপ্ন!

অর্চিত চন্দকের এই সাফল্যের গল্পটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে প্রশংসার বন্যা বয়ে গেছে। নেটিজেনদের এক বড় অংশের মতে, অর্চিতের এই যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে-জীবনে কেবল মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়াটাই শেষ কথা নয়, বরং নিজের জীবনের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে খুঁজে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাইরাল পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাফল্য তখনই ধরা দেয়, যখন আপনি কেবল চড়া বেতনের পেছনে না ছুটে নিজের কেরিয়ারকে জীবনের আসল লক্ষ্যের সঙ্গে মেলাতে পারেন।’ অন্য এক ব্যবহারকারী অর্চিতের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে লিখেছেন, ‘এটি কেবল নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসই ছিল না; বরং যে লক্ষ্যকে তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, তার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ঝুঁকি নেওয়ার অদম্য মানসিকতাও ছিল।’

অর্চিতের সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তৃতীয় এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘নিজের সিদ্ধান্তকে এভাবে জয় করার ঘটনা সত্যিই এক মাস্টারক্লাস! আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসবহুল জীবনকে হেলায় বিদায় জানিয়ে দেশের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যে অবিশ্বাস্য মানসিক স্পষ্টতার প্রয়োজন হয়, তা সত্যিই অনন্য এবং অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।’ জনসেবার প্রতি অর্চিতের এই টানকে কুর্নিশ জানিয়ে আরও একজন লিখেছেন, ‘দারুণ অনুপ্রেরণামূলক! দেশের সেবার জন্য ৩৫ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজ প্রত্যাখ্যান করা-প্রকৃত আত্মবিশ্বাস ও জীবনের সঠিক উদ্দেশ্যেরই পরিচয় দেয়। অর্চিত চন্দকের এই গল্প আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে লড়াই করার অক্সিজেন যোগায়।’

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন