বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে। প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গণহারে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ আজ বিকেলের মধ্যে পর্যটকদের দিঘা, মন্দারমণি ছাড়ার নির্দেশ কমিশনের
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াত, ভোটকর্মীদের বুথে পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিপুল সংখ্যক বাসের প্রয়োজন। সেই চাহিদা পূরণ করতেই রাজ্যের অধিকাংশ বেসরকারি বাসকে ধাপে ধাপে নির্বাচনী কাজে লাগানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বহু রুটে বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছে, ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার থেকে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার হওয়ায় কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বাস সঙ্কট চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী, সকলেরই ভোগান্তি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহরতলি বা গ্রামীণ এলাকার মানুষ, যাঁদের প্রধান ভরসা বেসরকারি বাস, তাঁদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হবে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার ডার্ক আন্ডারওয়ার্ল্ড! ১১০০ কোটির আবাসন জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট রাজ
এই পরিস্থিতি শুধু প্রথম দফার ভোটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রস্তুতির জন্যও আগাম বাস চাওয়া হয়েছে। ফলে এক দফা শেষ হতে না হতেই অন্য দফার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাচ্ছে। এর জেরে প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা অস্থির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ৪ মে ভোটগণনার দিন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। গণনা শেষে ভোটকর্মীদের ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য কাজ শেষ হতে হতে বাসগুলি রাস্তায় ফিরতে ৬ মে পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে বাস মালিক সংগঠনগুলির দাবি।
সরকারি বাস পরিষেবা থাকলেও, বিপুল যাত্রীর চাপ সামলানো তার পক্ষে সহজ নয়। ফলে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি এবার পরিবহণ সঙ্কটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে রাজ্যবাসীর কাছে।



