Tuesday, 30 June, 2026
30 June
HomeকলকাতাTMC: ‘আসল বনাম নকল’; চাণক্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক চালে সব ওলটপালট!

TMC: ‘আসল বনাম নকল’; চাণক্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক চালে সব ওলটপালট!

বিদ্রোহী ১৫ জন সাংসদ এবং ঋতব্রত শিবিরের ২২ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক প্রভাবশালী শীর্ষ নেতার মাধ্যমে কালীঘাটে বার্তা পাঠিয়েছেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর | একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের মঞ্চের ঠিক আগে, কার্যত আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতারা। গোপন সূত্রে খবর, NCPI-তে যোগ দেওয়া ১৫ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নব্য তৃণমূল’ শিবিরের ২২ জন বিধায়ক এখন কালীঘাটে ফিরতে মরিয়া। দলীয় সূত্রের খবর, নেত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরার জন্য রীতিমতো ‘অনুনয়-বিনয়’ শুরু করেছেন তাঁরা।

​ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ কারা করবে— তা নিয়ে যখন কয়েকদিন ধরে ‘আসল বনাম নকল’ তৃণমূলের দড়ি টানাটানি তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই অভাবনীয় মোড় বাংলার রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে দিল।

কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিয়ে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের পাল্টাসভা করার ডাক দিয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। অন্যদিকে, ২০ জন সাংসদ নিয়ে দিল্লির বুকে ঝড় তোলা NCPI শিবিরও ভেবেছিল মমতাবিহীন নব্য শক্তির উত্থান ঘটবে। কিন্তু রাজনীতির চাণক্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক চালে সব ওলটপালট!

আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’ টোপর পরিয়ে ফাটাফাটি ‘জামাই আদর’ তৃণমূল কাউন্সিলর বগাইকে

সূত্রের খবর, দিল্লির রাজনীতিতে NCPI-এর শীর্ষ নেতৃত্বের ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া এবং শিবিরের ভেতরে তীব্র নেতৃত্বহীনতার জেরেই এই চরম মোহভঙ্গ। এর ওপর যোগ হয়েছে নিচুতলার কর্মীদের তীব্র ক্ষোভ। কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “একুশে জুলাই মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদিকে ছাড়া কোনো শহিদ দিবস হবে না।”

হেভিওয়েট এক বিদ্রোহী বিধায়কের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক):

“আমরা ভুল বুঝেছিলাম। ভেবেছিলাম আলাদা মঞ্চ করে নিজেদের শক্তি দেখাব। কিন্তু মাঠে নেমে বুঝছি, বাংলায় ঘাসফুল আর দিদির আবেগের বাইরে আমাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্বই নেই। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে দিদি যদি আমাদের ‘গদ্দার’ বলে দেগে দেন, তবে আমাদের রাজনৈতিক কেরিয়ার চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।”

ভেতরের খবর, গত ৪৮ ঘণ্টায় চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী ১৫ জন সাংসদ এবং ঋতব্রত শিবিরের ২২ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক প্রভাবশালী শীর্ষ নেতার মাধ্যমে কালীঘাটে বার্তা পাঠিয়েছেন। বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো শর্ত ছাড়াই দলে ফিরতে রাজি। একুশে জুলাইয়ের মূল মঞ্চে না হলেও, অন্তত সাধারণ কর্মী হিসেবে তাঁদের যেন সমাবেশস্থলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, এই অনুনয়ের বার্তা পৌঁছালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাড়াহুড়ো করতে নারাজ। ২১শে জুলাইয়ের আগে দলে ফিরিয়ে তাঁদের ‘হিরো’ বানানোর কোনো মানসিকতা কালীঘাটের নেই।

আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়িতে এ কি কাণ্ড! পানশালার আড়ালে আস্ত বিয়ার কারখানা 

​দলীয় এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, “যাঁরা দিদির পিঠে ছুরি মেরে আলাদা দল গড়তে গিয়েছিলেন, আজ ২১শে জুলাইয়ের জনজোয়ার দেখে তাঁদের বুক কাঁপছে। দিদি সব জানেন, সব দেখছেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত দিদিই নেবেন।”

​রাজনৈতিক মহলের মতে, এই খবর যদি ১০০ শতাংশ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিদ্রোহী’দের শুধু রাজনৈতিকভাবে ধুলিসাৎ করবেন না, বরং প্রমাণ করে দেবেন— বাংলায় তৃণমূলের শেষ কথা একজনই, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিদ্রোহী শিবিরের এই ‘ঘরওয়াপসি’-র আর্জি দিদি মঞ্জুর করবেন, নাকি একুশের মঞ্চে দাঁড়িয়েই তাঁদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবেন?

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন