কলকাতা বিমানবন্দরে চড়ল উত্তেজনার পারদ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিম মারার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিষেক বিমানবন্দরে নামার আগেই বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হয়।
দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে কলকাতায় ফিরছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা অভ্যর্থনা জানাতে জড়ো হন। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কিছু সমর্থক অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ তুলেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। চিৎকার-চেঁচামেচি, ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতিতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়।
আরও পড়ুনঃ মমতার একুশে জুলাই কর্মসূচি বন্ধ? হাই কোর্টের নোটিস
তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিমান থেকে নামার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি নিরাপদে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলেন, “অভিষেককে আক্রমণ করার জন্য বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ডিম নিয়ে এসেছিল। এটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের উদাহরণ।” অন্যদিকে বিজেপি নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিদ্রোহী সাংসদদের ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। দিল্লিতে স্পিকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।


