নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে নিজের ‘সৈনিক’ তথা দীর্ঘদিনের সতীর্থ ববিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । শুক্রবার মেয়র তথা রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদের হয়ে প্রচারে গিয়ে মমতা শোনালেন পুরনো দিনের নানা স্মৃতির কথা। শুধু রাজনৈতিক সতীর্থ নয়, ফিরহাদ হাকিম যে তাঁর পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ— তা এদিন নতুন করে বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
আরও পড়ুনঃ PMর গঙ্গাসফর ইস্যুতে দিদি বললেন,‘যমুনায় ডুব দিয়ে আসুন’
তৃণমূলে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির ব্যতিক্রম ফিরহাদ হাকিম। মন্ত্রী ও মেয়র, দুই গুরুত্বপূর্ণ পদই সামলান তিনি। সিপিএম আমলে পাওয়া পুরনো কোমরের চোট আজও তাঁকে ভোগায়, কিন্তু রাজনীতিতে ‘সক্রিয়’ থাকার তাগিদে রোজ বিকেলে চেতলা পার্কে হাঁটা মাস্ট। নবান্নের ১৪ তলা থেকে কালীঘাটের অন্দরমহল, সব জায়গাতেই ফিরহাদের অবাধ যাতায়াত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতার গ্রহণযোগ্যতা তাই দলের অন্দরেও অন্য উচ্চতায়।
শুক্রবার ফিরহাদের প্রচারে গিয়ে মমতা স্মৃতির সরণি বেয়ে অনেকটা পিছনে ফিরে গেলেন। এক গভীর ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “আমার মায়ের অপারেশনের সময় তিন বোতল রক্তের দরকার ছিল। ববি বলেছিল, দিদি চিন্তা কোরো না। ববির সঙ্গে মায়ের রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করেছিল। ও প্রাণ বাঁচিয়েছিল।”
মমতা আরও জানান, শুধু মায়ের জীবন বাঁচানোই নয়, শেষ সময়েও ববির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমার মা যখন মারা গেলেন, তখনও অনেক কিছু সামলেছে ববি। আমি প্রথম ফোন ওকেই করি। কী করে ভুলব!”
ফিরহাদের বংশপরিচয় ও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গভীরতাকে তুলে ধরে মমতা এদিন মমতা বলেন, “ওর মা ব্রাহ্মণ, বাবা মুসলমান। এমন ক’টা দেখা যায়? ওর রক্তে হিন্দু আর মুসলমান। এটাই তো ভারতবর্ষ।”
আরও পড়ুনঃ প্রথম দফায় সেঞ্চুরি পার, শাহের মন্তব্যের জবাব অভিষেকের
পরিবারের অন্যান্য অনুষ্ঠানের সঙ্গেও ফিরহাদের নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মমতা। বলেন, “আমাদের ব্রাহ্মণদের বাড়িতে পৈতে হয়। আমাদের ঘরের একটি ছেলে, তার নাম আবেশ। ওর যখন পৈতে হয়, তখন মুখ দেখতে আর এক বাবা-মায়ের। তখন ববি আর রুবি আবেশের মুখ দেখেছিল। আমি কখনও এ সব কথা বলি না।”
সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি সাফ জানান, “আমি সকলের সঙ্গে থাকি। সকলকে নিয়ে চলতে ভালবাসি। গরিব হোক বা যে যে সম্প্রদায়ের হোন, সকলে আমার কাছে সমান। সংকীর্ণ রাজনীতি কখনও করিনি।”



