গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। স্টেশন সংলগ্ন একাধিক বেআইনি দোকান ও নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেডও বসানো হয়।
আরও পড়ুনঃ প্রবল বৃষ্টির রাতেই ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বাম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা যৌথভাবে প্রতিবাদে শামিল হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও বিক্ষোভে অংশ নেন। অভিযানের সময় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সৃজন অভিযোগ করেন, আদালত ও আইনকে উপেক্ষা করেই রেল এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় লাঠিচার্জ করা হয়। ঘটনায় নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। জানা গিয়েছে, জয়রাজের মাথায় আঘাত লাগে। উচ্ছেদ ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় জমায়েত শুরু হয়। এলাকাজুড়ে বুলডোজার মোতায়েন ছিল। পরে রাতের দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে একের পর এক দোকান ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের প্রতিবাদে কেউ বুলডোজারের সামনে শুয়ে পড়েন, আবার কেউ বুলডোজারের উপর উঠে বিক্ষোভ দেখান।
আরও পড়ুনঃ বাড়ল অনুপ্রবেশ বিতর্ক! শিলিগুড়ি জংশনে ৮ বাংলাদেশি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঊষসী চক্রবর্তী এবং কংগ্রেস নেতা সৌরভ প্রসাদ। বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের নির্দেশের বিষয়টি বিবেচনা না করেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আদালত খোলার পর প্রয়োজনীয় নথি রেলকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারও যাদবপুর স্টেশন এলাকায় একই ধরনের উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বেআইনি দখল উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে রেল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যাদবপুরেও অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাত প্রকাশ্যে এল।


