বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজস্থানে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান চলাকালীন চরম হিংসা ও হামলার মুখে পড়ল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শুক্রবার জয়পুরের কাছের রামপুরা-কাঁওরপুরা গ্রামে দলের সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর গ্রামবাসীদের একাংশ অতর্কিতে হামলা চালায় বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের জেরে গাড়িতে ভাঙচুর ও একাধিক সদস্য জখম হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘একবার SFI অফিস ভেঙেছিলাম, আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করব,’ JU ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিলীপের
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অনভিপ্রেত আক্রমণ
-
গোয়ালঘরে স্কুল চালানোর অভিযোগ: সিজেপির দাবি, রামপুরা-কাঁওরপুরা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কার্যত মহিষের গোয়ালঘরের মতো বেহাল অবস্থায় চলছিল। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দলের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়।
-
ধাওয়া ও গণপ্রহার: অভিযোগ, গাড়ি থেকে নেমে স্কুলের দিকে এগোতেই তাঁদের পথ আটকানো হয়। কথা কাটাকাটির পর প্রায় ৪০০ মিটার ধাওয়া করে সিজেপি কর্মীদের লাথি, ঘুষি, বেল্ট ও দড়ি দিয়ে মারধর করা হয়।
-
গাড়িতে পাথর বৃষ্টি: সিজেপির কনভয় লক্ষ্য করে প্রচুর পাথর ছোড়া হয়, যার ফলে একাধিক গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। হামলায় দলের এক নারী কর্মীসহ বহু সদস্য লাঞ্ছিত হন এবং এক স্বেচ্ছাসেবকের হাত ভেঙে যায় বলে দাবি।

গ্রামবাসীদের পাল্টা যুক্তি
-
রাজনৈতিক রং দেওয়ার বিরোধিতা: গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, স্কুলের সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তাঁরা এই নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চান না।
-
কটূক্তি ও বিরোধ: সিজেপি-র বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘নকশাল’ বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্য দিকে কিছু গ্রামবাসীর বক্তব্য, ভগবান রামের নামাঙ্কিত গ্রামে রাম-বিরোধী কোনো মতামত পোষণকারী গোষ্ঠীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুনঃ ১ জন ছাত্র, ১ জন শিক্ষক, এক প্লেট মিড ডে মিল! খাস কলকাতার বেহালার বেহাল সরকারি স্কুল
শিক্ষামন্ত্রীর দিকে আঙুল ও আল্টিমেটাম
-
হুঁশিয়ারি ও সময়সীমা: সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন যে, রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের নির্দেশেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
-
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: ঘটনার পরই রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে রাঙ্কা ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ওই সময়ের মধ্যে সমস্ত হামলাকারীদের গ্রেফতার না করা হলে এবং স্কুলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা না তুললে শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের পদত্যাগের দাবিতে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে সিজেপি।
ঘটনার জল বহু দূর গড়ালেও পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার মূল সত্যতা উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


