আলোঝলমলে থিমের চমক, ডিস্কো লাইটের রোশনাই আর কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের বিশাল বিলবোর্ডে যখন তিলোত্তমা থেকে শহরতলির পুজোগুলি মুখরিত, ঠিক তখনই কংক্রিটের মায়াজাল ছাড়িয়ে একটু দূরে তাকালে দেখা মেলে অন্য এক বাংলার। যেখানে আধুনিকতার বিন্দুমাত্র ছোঁয়া নেই, আছে শুধু নাড়ির টান আর এক গভীর শান্তি। সাগরদিঘির কোনো এক পুরোনো দত্তবাড়ির দালান হোক কিংবা গ্রামের মেঠো পথের ধারে ছোট্ট মাটির মণ্ডপ—সেখানে দেবী দুর্গা কোনো থিমের বন্দিনী নন, তিনি আটপৌরে মাটির ঘরে পূজিত মৃন্ময়ী মা।
গ্রামের পর গ্রাম পেরিয়ে এমন এক পুজোর সন্ধান পাওয়া মানে যেন শেকড়ের সন্ধান পাওয়া। শহরের হাজার হাজার টাকার বাজেট বা ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে সেই নিস্তব্ধ গ্রামীণ পরিবেশে পৌঁছলেই বোঝা যায়, পুজোর আসল আনন্দ কোথায় লুকিয়ে আছে। সেখানে ঢাকের আওয়াজে কৃত্রিম সাউন্ড সিস্টেমের কানফাঁটা বেসুরো ব্যাপার থাকে না, বরং কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি আর ধুনুচির ধোঁয়ায় মেতে ওঠে গোটা বাড়ির উঠোন। বাড়ির ছোট থেকে বড়—সবাই মিলে একসঙ্গে সবজি কাটা, নাড়ু পাকানো আর সন্ধ্যার সময় একসঙ্গে আরতিতে শামিল হওয়ার সেই উষ্ণতা আজকের দিনে বড্ড অমূল্য।
আরও পড়ুনঃ শহরের কোটি টাকার প্যান্ডেল ফেল; রাজপ্রাসাদ লাগে না, মা আসেন মাটির ঘরেও…
আজকের দ্রুতগতির ও যান্ত্রিক জীবনে আমরা যতই ঝাঁ চকচকে মণ্ডপে প্যান্ডেল হপিং করি না কেন, বাঙালির মন থেকে এই গ্রামীণ পুজোর গন্ধ কোনো দিনই মুছে যাওয়ার নয়। কারণ, বাংলার আসল দুর্গাপুজো তো রাজপ্রাসাদের অন্দরে লুকিয়ে নেই; তা লুকিয়ে আছে গ্রামের সেই মাটির ঘরে, যেখানে মা আসেন ঘরের মেয়ের মতো আর প্রতিমা বিসর্জনের সময় চোখের কোণে জমে থাকা কান্নার নোনা জলে মিশে থাকে এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা।


