বিহারের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত নাম প্রশান্ত কিশোর আবারও শিরোনামে। )জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তাঁর পটনার বাসস্থান ছেড়ে পটনার উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘বিহার নবনির্মাণ আশ্রম’-এ চলে গেছেন। সেখানে তিনি আগামী সাড়ে চার বছর অর্থাৎ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত থাকবেন বলে ঘোষণা করেছেন। দ্বারভাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিশোর জানান, “গতকাল রাতে আমি পটনার বাসা ছেড়েছি।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, জ্বলল মশাল; ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল
আইআইটি পাটনার কাছে অবস্থিত বিহার নবনির্মাণ আশ্রমই এখন থেকে আমার আবাসস্থল হবে। জন সুরাজ পার্টি যতদিন না শক্ত ভিত গড়ে তোলে, ততদিন এখানেই থাকব।”এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত নয়। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির ভরাডুবির পর প্রশান্ত কিশোর নিজেই দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, তিনি পুরোপুরি ব্যর্থতার দায় স্বীকার করছেন। দল ২৩৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও একটিও আসন জিততে পারেনি।
ভোটের হিসেবে মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি। এত বিপুল প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল অনুসারী এবং দীর্ঘ পদযাত্রা সত্ত্বেও ফলাফল এতটাই হতাশাজনক যে, অনেক আসনে দলের প্রার্থীরা নোটা-র চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন।প্রশান্ত কিশোর একসময় ভারতের অন্যতম সফল রাজনৈতিক কৌশলী হিসেবে পরিচিত। নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ সালের প্রচার, নিতীশ কুমারের জয়, তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্য অনেক বড় বড় অভিযানের পেছনে তাঁর হাত ছিল।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, জ্বলল মশাল; ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল
কিন্তু যখন তিনি নিজেই মাঠে নামলেন, তখন বিহারের জটিল জাতপাতের সমীকরণ, ভোটারদের মনস্তত্ত্ব এবং সংগঠনের অভাব তাঁকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইনস্টাগ্রামে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার থাকলেও মাটির রাজনীতিতে এখনও তাঁর পার্টি শেকড় গাড়তে পারেনি।তবে প্রশান্ত কিশোর হাল ছাড়তে নারাজ।
আশ্রমে থাকার সিদ্ধান্তকে তিনি দলকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। আশ্রম জীবনকে সরলতা ও নিষ্ঠার প্রতীক করে তিনি বলছেন, এখান থেকেই তিনি দলের কাজ চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ ‘গান্ধীবাদী’ স্টাইল বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ বলছেন এটি আসন্ন নির্বাচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।



