আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে শনিবার রাতের কলকাতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠল হাওড়া ব্রিজে বিশেষ লেজার আলোক প্রদর্শনী। গঙ্গার দুই তীর থেকে হাজার হাজার মানুষ সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন। ঐতিহাসিক সেতুর গায়ে রঙিন আলোর বিস্তার যেন শহরকে এক অনন্য আবহে মুড়ে দিল। এর সঙ্গে গঙ্গার আকাশে তিন হাজার আলোকযানের সমন্বয়ে তৈরি দৃশ্যপট যোগ করে এক বিরল অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুনঃ সুরুচি সংঘে মহাপ্রলয়! বন্ধ হয়ে যাবে পুজো?
মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট এবং হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা সন্ধ্যার পর থেকেই কার্যত উৎসব প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। আলোর রেখায় ফুটে ওঠে যোগচর্চার নানা প্রতীক, মানবদেহের শক্তিকেন্দ্রের ধারণা এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গ। তবে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে হাওড়া ব্রিজে লেজার আলোর খেলা। বহু মানুষ মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
গঙ্গার পাড়ে সমান্তরালভাবে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। ফলে যোগ দিবসের আয়োজন কেবল শরীরচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এক বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসবের রূপ নেয়।
এই আয়োজনের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্বও কম নয়। রবিবার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি। তাঁর উপস্থিতিতে বৃহৎ পরিসরে সম্মিলিত যোগাভ্যাসের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ। পাশাপাশি গঙ্গাবক্ষে নৌকায় যোগচর্চার বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গের জন্মলগ্নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ২০ জুন
কলকাতার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হাওড়া ব্রিজকে কেন্দ্র করে আলোর এই আয়োজন আসলে একটি বার্তাও বহন করছে। যোগকে শুধুমাত্র ব্যায়াম হিসেবে নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা কেন্দ্রীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে, শনিবারের অনুষ্ঠান ছিল তারই দৃশ্যমান প্রকাশ। গঙ্গা, হাওড়া ব্রিজ এবং রেড রোড—এই তিন প্রতীকী পরিসরকে ঘিরে যোগ দিবসের আবহে কলকাতা এ বার জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল।
শনিবার সন্ধ্যা 8টা থেকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে মিলেনিয়াম পার্ক ও প্রিন্সেপ ঘাটে একটি চোখ ধাঁধানো ড্রোন শো হয়েছে। গঙ্গাবক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। প্রিন্সেপ ঘাটে কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। প্রিন্সেপ ঘাট আর মিলেনিয়াম পার্কে মিলিয়ে আয়োজিত মেগা ড্রোন শো এবং বিশেষ লেজার শোয়ের আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে উৎসবের চেহারা নেয় কলকাতার গঙ্গা সংলগ্ন এলাকা ৷ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে এই আয়োজন কলকাতার সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আলো, সঙ্গীত এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে শহরের রাত যেন এক রূপকথার জগত তৈরি করেছে।


