ঈদ উল আজহা উপলক্ষে পশুবলির উপর রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে যে, গোরু, বলদ, বাছুর বা মহিষ জবাই ঈদ উদযাপনের অপরিহার্য অংশ নয়। এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ঈদের সময় নির্দিষ্ট পশুদের জবাইয়ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামানের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলা শুনানি হয়েছিল। বিধায়ক যুক্তি দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১২ অনুসারে রাজ্য সরকারের উচিত ছিল ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বিশেষ অনুমতি প্রদান করা। ধারা ১২-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, সরকার বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ধর্মীয় উৎসবের জন্য পশু জবাইয়ের অনুমতি দিতে পারে। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুনঃ খুলল ‘আর জি কর ফাইলস’; ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য, স্ক্যানারে সবটা
বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য গো-জাতীয় পশু জবাই ইসলাম ধর্মের মৌলিক বা অপরিহার্য অংশ নয়। ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়েও বিকল্প উপায়ে উৎসব পালন সম্ভব। আদালত আরও জানিয়েছে, পশু নির্যাতন রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার দিক বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত।রায় প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির এরকম রাজনৈতিক দাপট থাকবে কত বছর? বড় পূর্বাভাস
বিজেপি নেতারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পশুকল্যাণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পশু অধিকার কর্মীরা এই রায়ে খুশি প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অপ্রয়োজনীয় পশু হত্যা কমবে। বিশেষ করে কলকাতা ও জেলা শহরগুলোতে অস্থায়ী জবাইখানা তৈরি করে যেভাবে পশু জবাই করা হত, তাতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়েরই ক্ষতি হত।
যদিও কলকাতায় মুসলিমদের একাংশ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। খোদ নাখোদা মসজিদের ইমাম গো হত্যা এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কিন্তু তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলেন কিন্তু আজ কলকাতা হাইকোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দিয়ে গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।



